Aadhaar App: নতুন স্মার্টফোন কিনলেই তাতে আগে থেকে ইনস্টল করা থাকবে সরকারি আধার অ্যাপ! সম্প্রতি এমনই এক প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এই প্রস্তাবে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে অ্যাপল (Apple), স্যামসাং (Samsung) ও গুগলের (Google) মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় স্মার্টফোন নির্মাতা সংস্থাগুলি। ঘড়ির অ্যালার্ম বা ক্যালকুলেটরের মতো আধার অ্যাপটিকেও যাতে নতুন ফোনের ডিফল্ট অ্যাপ হিসেবে রাখা হয়, সেই আবেদনই করেছিল কেন্দ্র।
কেন সরকারের এই উদ্যোগ?
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইউআইডিএআই (UIDAI) একটি নতুন এবং উন্নত আধার অ্যাপ চালু করে। এর সাহায্যে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য আপডেট করা, পরিবারের প্রোফাইল ম্যানেজ করা এবং সুরক্ষার জন্য বায়োমেট্রিক ডেটা লক করার সুবিধা পান। সরকারের মতে, এই অ্যাপটি আগে থেকে স্মার্টফোনে ইনস্টল করা থাকলে দেশের ১৩৪ কোটির বেশি নাগরিকের জন্য এটি ব্যবহার করা অনেক বেশি সহজ হবে। আলাদা করে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে খোঁজার ঝামেলা থাকবে না।
প্রযুক্তি সংস্থাগুলির আপত্তির কারণ কী?
এই প্রস্তাব প্রকাশ্যে আসতেই স্মার্টফোন নির্মাতাদের সংগঠন এমএআইটি (MAIT) এর কড়া বিরোধিতা করেছে। প্রধানত দুটি কারণে এই আপত্তি জানানো হয়েছে:
- গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা: অ্যাপল এবং স্যামসাংয়ের মতো নামিদামি সংস্থাগুলি গ্রাহকদের তথ্য ফাঁস এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অতীতে আধারের তথ্য ফাঁসের একাধিক ঘটনা এই চিন্তাকে আরও জোরালো করেছে।
- উৎপাদন ও সাপ্লাই চেইনে জটিলতা: এমএআইটি জানিয়েছে, শুধুমাত্র ভারতের বাজারের জন্য আলাদাভাবে সরকারি অ্যাপ ইনস্টল করে ফোন তৈরি করলে সাপ্লাই চেইনে মারাত্মক জটিলতা বাড়বে। কারণ, রপ্তানির জন্য তৈরি ফোনের প্রোডাকশন লাইন তখন সম্পূর্ণ আলাদা করতে হবে। সংগঠনের মতে, এই পদক্ষেপ বৃহত্তর জনস্বার্থে খুব একটা কার্যকরী হবে না।
সঞ্চার সাথী এবং অন্যান্য অ্যাপের বিতর্ক
কয়েক সপ্তাহ আগেই চুরি যাওয়া ফোন ব্লক করার উদ্দেশ্যে তৈরি ‘সঞ্চার সাথী’ (Sanchar Saathi) অ্যাপ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয় সরকার। সেই সময় পুরোনো ফোনেও সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে অ্যাপটি ঢোকানোর চেষ্টা হয়েছিল, যা ডিলিট করার কোনো উপায় ছিল না। আধার প্রস্তাবটি তার থেকে কিছুটা নমনীয় হলেও, প্রযুক্তি সংস্থাগুলি কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়।
জানা গিয়েছে, আধার ছাড়াও ‘সচেত’ (Sachet)-এর মতো আরও অন্তত ৫টি সরকারি অ্যাপ ফোনে প্রি-ইনস্টল করা নিয়ে স্মার্টফোন সংস্থাগুলি আপত্তি জানিয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রথম সারির গণতান্ত্রিক দেশগুলির মধ্যে (যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় ইউনিয়ন) এই ধরনের বাধ্যতামূলক নিয়মের চল নেই। ব্যতিক্রমীভাবে শুধুমাত্র রাশিয়াতেই এমন সরকারি অ্যাপ বাধ্যতামূলক করার নিয়ম রয়েছে।














