Aadhaar New Rule: এবার থেকে হোটেল বুকিং হোক বা কোনো বড় অনুষ্ঠান, নিজের পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ডের ফোটোকপি বা জেরক্স জমা দেওয়ার দিন শেষ হতে চলেছে। আধার কর্তৃপক্ষের তরফে খুব শীঘ্রই এই মর্মে একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং গোপনীয়তা বজায় রাখতেই এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এতদিন পর্যন্ত আমরা দেখে এসেছি যে বিভিন্ন হোটেল বা ইভেন্ট অর্গানাইজাররা ভেরিফিকেশনের নাম করে গ্রাহকদের কাছ থেকে আধার কার্ডের ফোটোকপি সংগ্রহ করে নিজেদের কাছে রেখে দিত, যা আসলে আধার আইনের পরিপন্থী।
UIDAI-এর নতুন পদক্ষেপ
ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা UIDAI-এর সিইও ভুবনেশ কুমার জানিয়েছেন যে, আধার কার্ডের ফোটোকপি জমা নেওয়ার এই পুরানো পদ্ধতি এবার পুরোপুরি বন্ধ করা হবে। এর বদলে একটি নতুন ফ্রেমওয়ার্ক বা পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যে সমস্ত সংস্থা আধার ভিত্তিক ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চালায়, যেমন হোটেল বা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, তাদের এবার থেকে নির্দিষ্ট সিস্টেমে নিজেদের রেজিস্টার বা নথিভুক্ত করতে হবে। এই নথিভুক্তিকরণের পরেই তারা আধারের নতুন ভেরিফিকেশন টেকনোলজি ব্যবহারের অনুমতি পাবে।
কাগজহীন যাচাইকরণ প্রক্রিয়া
কাগজের ব্যবহার কমিয়ে এবং তথ্যের অপব্যবহার রুখতে এবার প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। নতুন নিয়মে ভেরিফিকেশনের জন্য দুটি প্রধান পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে:
- কিউআর কোড স্ক্যানিং: গ্রাহকের আধার কার্ডে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে নিমেষেই পরিচয় যাচাই করা যাবে।
- মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন: একটি নতুন আধার মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে খুব সহজেই এই কাজ সম্পন্ন হবে।
কর্তৃপক্ষের মতে, এই নতুন পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্যই হলো পেপার-বেসড বা কাগজ নির্ভর ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াকে নিরুৎসাহিত করা। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষা হবে, অন্যদিকে গ্রাহকের তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।
অফলাইন ভেরিফিকেশন ও প্রযুক্তির ব্যবহার
অনেক সময় দেখা যায় যে ইন্টারনেটের সমস্যা বা সার্ভার ডাউন থাকার কারণে আধারের সেন্ট্রাল ডেটাবেসের সাথে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয় না। এই সমস্যা দূর করতে নতুন ব্যবস্থায় অফলাইন অথেন্টিকেশনের সুবিধাও রাখা হচ্ছে। ভেরিফিকেশন প্রয়োজন এমন সংস্থাগুলিকে একটি বিশেষ এপিআই (API) দেওয়া হবে, যা তারা নিজেদের সফটওয়্যারের সাথে যুক্ত করে নিতে পারবে। বর্তমানে ইউআইডিএআই একটি নতুন অ্যাপের বিটা টেস্টিং চালাচ্ছে যা ‘অ্যাপ-টু-অ্যাপ’ অথেন্টিকেশন সাপোর্ট করবে। এর ফলে প্রতিটি ট্রানজাকশনের জন্য আর সেন্ট্রাল সার্ভারের সাথে কানেক্ট করার প্রয়োজন পড়বে না। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বিভিন্ন রিটেল আউটলেটেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে।
ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ইউআইডিএআই-এর সিইও জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই নতুন ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীদের প্রাইভেসি বা গোপনীয়তা সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত থাকবে। কাগজের ফোটোকপি জমা দিলে তা বেহাত হওয়ার বা তথ্যের অপব্যবহার হওয়ার যে ঝুঁকি থাকত, তা এবার পুরোপুরি নির্মূল হবে। আগামী ১৮ মাসের মধ্যে ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট বা ডিপিডিপি আইন পুরোপুরি কার্যকরী হতে চলেছে। এই নতুন অ্যাপটি সেই আইনের সমস্ত শর্ত মেনেই তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের তথ্যও নিরাপদে রাখতে পারবেন।














