Banglarbhumi: জমির মিউটেশন ও পর্চা নিয়ে বড় খবর! ‘বাংলার ভূমি’ পোর্টালে নতুন ফিচার, ভোগান্তির দিন শেষ

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

Banglarbhumi: রাজ্যের জমির মালিক এবং চাষিদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তির খবর নিয়ে এল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। জমি সংক্রান্ত নথিপত্র ঠিক করা, মিউটেশন বা নাম পত্তন নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির দিন এবার শেষ হতে চলেছে। রাজ্য ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের অত্যন্ত জনপ্রিয় পোর্টাল ‘বাংলার ভূমি’ (Banglarbhumi)-কে ঢেলে সাজানো হয়েছে এবং এতে যুক্ত করা হয়েছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা— ‘আধুনিক আপিল মডিউল’

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই নতুন ব্যবস্থা চালু হওয়ার ফলে জমি সংক্রান্ত অভিযোগ বা আপিল জানানোর জন্য আর সরকারি দফতরে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। বাড়িতে বসেই নির্দিষ্ট লিঙ্কে ক্লিক করে অভিযোগ জানানো যাবে।

কেন এই নতুন উদ্যোগ?

জমি কেনাবেচার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো মিউটেশন বা নাম পত্তন। সরকারি নথিতে বা রেকর্ড অফ রাইটস-এ (RoR) নিজের নাম না থাকলে জমির আইনি মালিকানা সম্পূর্ণ হয় না। কিন্তু এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে বা কোনও ভুল সংশোধন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রচুর হয়রানির শিকার হতে হয়।

  • এতদিন অভিযোগ জানানোর জন্য বারবার বিডিও (BDO), বিএলআরও (BLRO) বা জেলাশাসকের (DM) দফতরে যেতে হতো।
  • সময়ের অপচয় এবং যাতায়াতের ধকল ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী।
  • প্রশাসনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর রাজ্যে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার আপিল বা অভিযোগ জমা পড়ে।

নবান্ন আশা করছে, অনলাইন ব্যবস্থা চালু হলে এই বিপুল সংখ্যক অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে এবং সরকারি লাল ফিতের ফাঁস আলগা হবে।

‘আপিল মডিউল’-এর মাধ্যমে কী কী সুবিধা মিলবে?

ভূমি সংস্কার দফতর সূত্রে খবর, শুধুমাত্র মিউটেশন নয়, জমির মালিকানা ও অধিকার সংক্রান্ত একাধিক সমস্যার সমাধান মিলবে এই নতুন মডিউলের মাধ্যমে। যে বিষয়গুলির জন্য অনলাইনে আপিল করা যাবে, সেগুলি হলো:

১. মিউটেশন সংক্রান্ত জটিলতা: জমির মালিকানা পরিবর্তনের সময় কোনও সমস্যা হলে বা আবেদন খারিজ হলে তার বিরুদ্ধে আপিল।
২. পাট্টা ও বর্গা সমস্যা: পাট্টা পাওয়া জমি বা বর্গাদারদের অধিকার সংক্রান্ত বিবাদ।
৩. বর্গাদারের নাম সংক্রান্ত অভিযোগ: রেকর্ড থেকে বর্গাদারের নাম বাদ পড়া বা ভুল নাম ওঠা নিয়ে অভিযোগ।
৪. ফসলের ভাগ: জমির মালিক ও বর্গাদারের মধ্যে ফসলের ভাগ নিয়ে বিবাদ।
৫. জমির অপব্যবহার: বাস্তু বা কৃষিজমির অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ।

স্বচ্ছতা এবং গতি আসবে প্রশাসনিক কাজে

এতদিন জমি সংক্রান্ত শুনানির জন্য ক্রেতা, বিক্রেতা এবং প্রয়োজনে পুরনো রেকর্ডভুক্ত মালিককে নোটিশ দিয়ে ডাকা হতো। বিএলআরও বা রেভিনিউ অফিসার শুনানির পর রায় দিতেন। সেই রায়ে সন্তুষ্ট না হলে জেলা ভূমি আধিকারিক (DLRO)-এর কাছে আপিল করতে হতো, যা ছিল সময়সাপেক্ষ।

এখন থেকে এই পুরো আপিল প্রক্রিয়াটিই অনলাইনে সম্পন্ন হবে। এর ফলে নিম্নলিখিত সুবিধাগুলি পাওয়া যাবে:

  • অনলাইন ট্র্যাকিং: আবেদনকারী বাড়িতে বসেই দেখতে পাবেন তাঁর অভিযোগ বা আপিল বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে।
  • দ্রুত নিষ্পত্তি: নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা সহজ হবে।
  • স্বচ্ছতা: পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল হওয়ার ফলে দুর্নীতির সম্ভাবনা কমবে এবং কাজের স্বচ্ছতা বাড়বে।

রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে সাধারণ কৃষিজীবী মানুষ এবং জমির মালিকরা যে বড়সড় স্বস্তি পাবেন, তা বলাই বাহুল্য। সরকারি পরিষেবাকে মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই আধুনিকীকরণ।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন