Blo App Update: রাজ্যজুড়ে জোরকদমে চলছে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ। বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর এই ব্যস্ততম সময়ে নির্বাচন কমিশনের ব্যবহৃত বিএলও (BLO) অ্যাপ নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অ্যাপের মধ্যে আচমকা একটি নতুন ফিচার বা অপশন যুক্ত হওয়ার ফলে রাজ্যের হাজার হাজার সরকারি কর্মী, যারা বিএলও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তারা চরম বিভ্রান্তিতে পড়েছেন।
অ্যাপে হঠাৎই নতুন অপশন: কী এই পরিবর্তন?
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বহু বিএলও লক্ষ্য করেন যে তাদের ব্যবহৃত অফিশিয়াল অ্যাপটিতে একটি নতুন মেনু বা অপশন ভেসে উঠেছে। অপশনটিতে লেখা রয়েছে, “Documents Uploaded by Citizen Against Hearing”। অর্থাৎ, শুনানির প্রেক্ষিতে নাগরিকদের আপলোড করা নথিপত্র। সাধারণত অ্যাপে কোনও বড় পরিবর্তন আসার আগে বা নতুন ফিচার যুক্ত করার আগে কমিশনের তরফে বিস্তারিত নির্দেশিকা বা ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ (SOP) দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে তেমন কোনও আগাম বার্তা ছাড়াই এই পরিবর্তনটি এসেছে বলে অভিযোগ।
নির্দেশিকার অভাবে ধোঁয়াশায় কর্মীরা
এই নতুন ফিচারটি অ্যাপে দেখা গেলেও, এর ব্যবহারিক প্রয়োগ নিয়ে কর্মীরা অন্ধকারে রয়েছেন। মূলত যে প্রশ্নগুলি বিএলও এবং সুপারভাইজারদের ভাবাচ্ছে:
- কাজের পরিধি: এই আপলোড করা নথিগুলি কি বিএলও-দের যাচাই করতে হবে?
- শুনানি প্রক্রিয়া: যদি যাচাই করতে হয়, তবে কি সংশ্লিষ্ট ভোটারের শুনানিতে বিএলও-কে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে?
- ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা: বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইআরও (ERO) বা নির্বাচন আধিকারিকদের কাছেও স্পষ্ট কোনও নির্দেশিকা নেই। ফলে তারাও অধস্তন কর্মীদের সঠিক পথ দেখাতে পারছেন না।
ভোটার পোর্টাল আপডেট ও তার যোগসূত্র
এই বিভ্রান্তির সূত্রপাত সম্ভবত আগের দিন অর্থাৎ বুধবারের একটি ঘটনা থেকে। নির্বাচন কমিশন সাধারণ নাগরিকদের সুবিধার জন্য ভোটার পোর্টালে একটি নতুন সুবিধা চালু করে। এর মাধ্যমে কোনও ভোটার সহজেই দেখে নিতে পারবেন যে, তার নাম বা আবেদনের প্রেক্ষিতে কোনও শুনানির নোটিস জারি হয়েছে কি না।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সাধারণ মানুষ পোর্টালে শুনানির নোটিস দেখে যদি কোনও নথি আপলোড করেন, তবে সেই নথিটিই সম্ভবত বিএলও অ্যাপের এই নতুন অপশনে প্রতিফলিত হওয়ার কথা। কিন্তু পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে কাজ করবে বা একে অপরের সাথে কীভাবে সংযুক্ত, তা নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।
সংগঠনগুলির দাবি ও ক্ষোভ
কাজের মাঝপথে এহেন বিভ্রান্তিতে কাজের গতি শ্লথ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন এবং বিএলও ঐক্যমঞ্চের মতো সংগঠনগুলি বিষয়টিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন যেন অবিলম্বে এই ধোঁয়াশা কাটাতে একটি স্পষ্ট ও বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করে। কর্মীরা যাতে নির্ভুলভাবে এবং নির্বিঘ্নে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ সম্পন্ন করতে পারেন, তার জন্য এই কারিগরি ও প্রশাসনিক জট কাটানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।














