BLO Election Duties: ভোটের দিন এবং আগে বিএলওদের আসল কাজ কী? জানুন নির্বাচন কমিশনের নিয়মাবলী

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

BLO Election Duties: গণতন্ত্রের সবথেকে বড় উৎসব হল নির্বাচন। আর এই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন মেনে বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলওদের এক অপরিসীম ভূমিকা পালন করতে হয়। সাধারণত প্রিসাইডিং বা ফার্স্ট এবং সেকেন্ড পোলিং অফিসারদের মতো বুথের ভেতরের কোনো সরাসরি দায়িত্ব তাদের দেওয়া হয় না। বরং তাদের মূল লক্ষ্য থাকে ভোটারদের সাহায্য করা এবং মাঠ পর্যায়ে সঠিক তথ্য যাচাই করা। বুথের বাইরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন নাগরিকদের বাড়ি পর্যন্ত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো তারাই সম্পন্ন করেন। তবে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনে এই দায়িত্বের কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।

ভোটের দিন ভোটারদের সাহায্যে বিশেষ ভূমিকা

ভোটগ্রহণের দিন বিএলওরা মূলত বুথের বাইরে থেকে পুরো প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেন। তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সাহায্যকারী ডেস্ক বা ‘ভোটার অ্যাসিস্ট্যান্স বুথ’ (VAB) বরাদ্দ থাকে। অনেক সময় ভোটাররা নিজেদের তথ্য সংবলিত স্লিপ আনতে ভুলে যান। সেই পরিস্থিতিতে বিএলওরা অ্যালফাবেটিক্যাল রোল থেকে নাম ও নম্বর খুঁজে নতুন স্লিপ লিখে দিয়ে সাধারণ মানুষকে সাহায্য করেন। বর্তমানে নিরাপত্তার কারণে বুথের ভেতরে মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তাই ভোটারদের মোবাইল সুরক্ষিত রাখার কোনো নির্দিষ্ট ব্যবস্থা থাকলে, তার তদারকিও বিএলওদের করতে হয়। এছাড়াও সঠিক লাইনে দাঁড় করানো বা যেকোনো সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তারা মানুষকে সঠিক দিশা দেখান।

নির্বাচন শুরুর আগের প্রস্তুতি ও তালিকা যাচাই

ভোটের অন্তত পাঁচ দিন আগে থেকে বিএলওদের তৎপরতা শুরু হয়ে যায়। তাদের প্রধান দায়িত্বের মধ্যে অন্যতম হল প্রতিটি ভোটারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ (VIS) পৌঁছে দেওয়া। এই স্লিপে বুথের নাম, নম্বর, ভোটের তারিখ, সময়, ভোটারের পার্ট ও সিরিয়াল নম্বর এবং একটি কিউআর কোড থাকে। তবে মনে রাখা জরুরি যে, এই স্লিপে কোনো প্রার্থীর ছবি থাকে না এবং এটি এককভাবে কোনো পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রাহ্য হয় না।

এই স্লিপ বিতরণের পাশাপাশি তারা আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকেন, যা হল এএসডি (ASD) তালিকা প্রস্তুত করা। ভোটার তালিকায় নাম থাকলেও বর্তমানে সেই ভোটারের অবস্থা কী, তা যাচাই করা হয়। কেউ যদি মারা গিয়ে থাকেন, অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হন, অনুপস্থিত থাকেন বা একাধিক জায়গায় নাম থাকে, তবে সেই তথ্য সংগ্রহ করা হয়। রিভিশন প্রক্রিয়ার পরেও যদি কারও মৃত্যু বা বিয়ে হয়, সেই আপডেটও তারা সংগ্রহ করেন।

বয়স্ক এবং বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্নদের জন্য সুবিধা

যেসব ভোটারের বয়স ৮৫ বছরের বেশি, যারা বিশেষভাবে সক্ষম অথবা কোভিড আক্রান্ত, তাদের জন্য নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ছাড় রয়েছে। বিএলওরা এই ধরনের নির্দিষ্ট ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে ফর্ম ১২ডি (Form 12D) প্রদান করেন। তারা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে বাড়ি থেকে ভোট দিতে ইচ্ছুক কি না, তা যাচাই করা হয়। যদি তারা রাজি হন, তবে ফর্ম পূরণে সাহায্য করা এবং ঠিক পাঁচ দিন পর পূরণ করা ফর্মটি পুনরায় সংগ্রহ করে রিটার্নিং অফিসার বা বিডিওর কাছে জমা দেওয়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব বিএলওরাই অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করেন।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন