Central Govt Strike: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের কনফেডারেশন (Confederation of Central Govt. Employees & Workers) তাদের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বড়সড় আন্দোলনের পথে হাঁটল। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেশজুড়ে একদিনের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি। ২৩শে জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভারতের ক্যাবিনেট সচিবকে একটি কড়া ভাষায় লেখা চিঠির মাধ্যমে এই ধর্মঘটের নোটিশ বা স্ট্রাইক নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এই ধর্মঘটের মূলে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক দাবি, যা সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। কনফেডারেশনের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে ১০ দফা এবং ১২ দফার দুটি পৃথক চার্টার অফ ডিমান্ডস (Charter of Demands) পেশ করা হয়েছে।
৮ম পে কমিশন ও বেতন কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের দাবি
কনফেডারেশনের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে অন্যতম হলো অষ্টম পে কমিশন (8th Pay Commission) সংক্রান্ত। সংগঠনের মতে, পে কমিশনের ‘টার্মস অফ রেফারেন্স’ বা শর্তাবলী সংশোধন করতে হবে। এতে কর্মচারী এবং জেসিএম (JCM)-এর স্টাফ সাইডের দেওয়া পরামর্শগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি, বেতন ও পেনশনের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক কিছু পরিবর্তনের দাবিও তুলেছে সংগঠনটি:
- ডিএ মার্জার (DA Merger): ১লা জানুয়ারি ২০২৬ থেকে মূল বেতনের (Basic Pay) সঙ্গে ৫০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (DA/DR) সংযুক্ত বা মার্জ করতে হবে।
- অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি (Interim Relief): নতুন পে কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হওয়ার আগে অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি বা আইআর (IR) হিসেবে মূল বেতন ও পেনশনের ২০ শতাংশ প্রদান করতে হবে।
পেনশন ব্যবস্থা ও বকেয়া ডিএ নিয়ে কঠোর অবস্থান
পেনশনভোগীদের জন্য একাধিক দাবি পেশ করা হয়েছে, যা এই ধর্মঘটের অন্যতম চালিকাশক্তি।
- পুরানো পেনশন বা ওপিএস (OPS) ফেরানো: এনপিএস (NPS) এবং ইউপিএস (UPS) বাতিল করে সমস্ত কর্মচারীর জন্য পুরনো পেনশন স্কিম বা ওপিএস ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে।
- করোনা কালের বকেয়া ডিএ: কোভিড অতিমারীর সময় যে ১৮ মাসের ডিএ (DA) এবং ডিআর (DR) ফ্রিজ করে রাখা হয়েছিল, তা অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে।
- পেনশন বিক্রি বা কমিউটেশন: বর্তমানে কমিউটেড পেনশন পুনরুদ্ধারের সময়সীমা ১৫ বছর। এটিকে কমিয়ে ১১ বছর করার দাবি জানিয়েছে কনফেডারেশন।
শূন্যপদ পূরণ ও অন্যান্য প্রশাসনিক দাবি
শুধুমাত্র আর্থিক দাবিই নয়, প্রশাসনিক স্তরেও একাধিক পরিবর্তনের ডাক দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে খালি পড়ে থাকা সমস্ত পদ দ্রুত পূরণ করার কথা বলা হয়েছে। আউটসোর্সিং এবং সরকারি দপ্তরের বেসরকারীকরণ বা করপোরেটাইজেশন বন্ধ করার দাবিও জোরালোভাবে উঠে এসেছে। পাশাপাশি, কম্প্যাশনেট অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা অনুকম্পা মূলক চাকরির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশের যে সিলিং বা ঊর্ধ্বসীমা রয়েছে, তা তুলে দিয়ে মৃত কর্মচারীর পরিবারকে নিঃশর্তে চাকরি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর এই ধর্মঘট সফল করতে সমস্ত অনুমোদিত সংগঠনগুলিকে আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকার যদি এর মধ্যে দাবি মেনে না নেয়, তবে আন্দোলন আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে এই নোটিশে।














