DA Arrears: পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের মহার্ঘভাতা বা ডিএ (DA) মামলায় এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিল সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশ। শীর্ষ আদালতের এই রায় একদিকে যেমন কর্মচারীদের একাংশের জন্য আশার আলো, তেমনই রাজ্য সরকারের কোষাগারের ওপর এক বড়সড় আর্থিক প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বৃহস্পতিবারের এই রায় এবং তার পরবর্তী প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও আর্থিক অঙ্ক
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ২০০৯ সালের অগস্ট থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের যে বকেয়া ডিএ পাওনা ছিল, তার ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। প্রশাসনিক মহলে এখন মূল চর্চার বিষয় হল, এই ২৫ শতাংশ মেটাতে ঠিক কত টাকা খরচ হবে নবান্নর?
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই ২৫ শতাংশ বকেয়া মেটাতে রাজ্য সরকারের খরচ হতে পারে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা। এই অঙ্কটি যে মোটেও ছোট নয়, তা রাজ্যের বাজেটের দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়। উদাহরণস্বরূপ, গত বাজেটে সমগ্র রাজ্যের কৃষিকাজের জন্য যা বরাদ্দ ছিল (১০,০৭৯ কোটি টাকা), বকেয়া ডিএ-র এই ২৫ শতাংশের পরিমাণ তার থেকেও বেশি। আর যদি মোট বকেয়া বা ১০০ শতাংশের হিসাব করা হয়, তবে তা প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছাবে, যা ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের এক বছরের খরচের (১৯,২৮৫ কোটি টাকা) দ্বিগুণেরও বেশি।
বাকি ৭৫ শতাংশের ভবিষ্যৎ কী?
আদালত আপাতত ২৫ শতাংশ মেটানোর নির্দেশ দিলেও, বাকি ৭৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট একটি বিশেষ পদক্ষেপ করেছে। বকেয়া মেটানোর পদ্ধতি এবং কিস্তির সংখ্যা নির্ধারণের জন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি নতুন কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কমিটিই ঠিক করবে বাকি টাকা কীভাবে এবং কত দিনে রাজ্য সরকারকে মেটাতে হবে।
রাজনৈতিক ও আইনি ব্যাখ্যা: হার না জিত?
এই রায়কে ঘিরে রাজনৈতিক তর্জা তুঙ্গে। বিরোধী দলনেতারা একে রাজ্য সরকারের বড় পরাজয় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ওপর চাপ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, ভোটের মুখে এই আর্থিক বোঝা সরকারের অস্বস্তি বাড়াবে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরমহলে এবং আইনজ্ঞদের একাংশের মতে, এটি সরকারের জন্য আংশিক ‘স্বস্তি’। কারণ, কলকাতা হাই কোর্ট এর আগে নির্দেশ দিয়েছিল যে মাত্র তিন মাসের মধ্যে পুরো বকেয়া মিটিয়ে দিতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সেই সময়সীমা এবং অর্থের পরিমাণে কিছুটা শিথিলতা পাওয়া গেছে। তাৎক্ষণিক পুরো টাকা না দিয়ে, ২৫ শতাংশ দিয়ে এবং বাকিটার জন্য কমিটি গঠনের মাধ্যমে রাজ্য সরকার কিছুটা সময় পেল বলে মনে করা হচ্ছে।
বাজেটে ডিএ ঘোষণা ও বর্তমান পরিস্থিতি
কাকতালীয়ভাবে, যেদিন সুপ্রিম কোর্ট এই রায় দেয়, সেদিনই বিধানসভায় অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বাজেটে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য নতুন করে ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়। তবে মনে রাখা দরকার, এই ৪ শতাংশ বৃদ্ধির সঙ্গে আদালতের নির্দেশে দেওয়া বকেয়া ডিএ-র (৫ম বেতন কমিশনের আওতাধীন) কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। নতুন ঘোষণার পরেও কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে রাজ্যের ডিএ-র পার্থক্য দাঁড়িয়েছে ৩৬ শতাংশে।














