DA Arrears Case: পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে আন্দোলন ও আইনি লড়াই এক নতুন মোড় নিল। রাজ্য সরকারের দীর্ঘ নীরবতা এবং বকেয়া মেটানোর বিষয়ে পদক্ষেপের অভাবে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের (Sangrami Joutha Mancha) নেতৃত্বে সরকারি কর্মীরা এবার সরাসরি প্রশাসনিক প্রধানের বাসভবন অর্থাৎ কালীঘাট অভিযানের ডাক দিয়েছেন। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পালন না করার অভিযোগে শীর্ষ আদালতে আদালত অবমাননার মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এই জোড়া ফলা রাজ্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার অভিযোগ
গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে পঞ্চম বেতন কমিশন অনুযায়ী ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ মেটাতে হবে। বিশেষত, ৬ মার্চের মধ্যে বকেয়ার ২৫ শতাংশ অর্থ কর্মীদের অ্যাকাউন্টে জমা করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, এই নির্দেশ সত্ত্বেও রাজ্য সরকার এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। এই প্রেক্ষাপটে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ জানিয়েছেন, নির্দেশের অবমাননা করে বকেয়া না মেটানোর কারণে তাঁরা ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে শীর্ষ আদালতে একটি ‘কনটেম্পট অফ কোর্ট’ বা আদালত অবমাননার পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। এই মামলায় রাজ্যের মুখ্যসচিবকে জবাবদিহি করতে হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
‘কালীঘাট চলো’ কর্মসূচির ডাক
শুধুমাত্র আইনি লড়াইয়েই থেমে থাকছে না সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। রাস্তায় নেমে আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়াতে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে ‘কালীঘাট চলো’ অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে। দুপুর ১২:৩০ মিনিটে এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা। এই অভিযানের মূল দাবিগুলি হল:
- অবিলম্বে সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে বকেয়া ডিএ প্রদান করা।
- রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করা যোগ্য অনিয়মিত কর্মীদের স্থায়ীকরণ করা।
- রাজ্যে প্রায় ৬ লক্ষ শূন্যপদে স্বচ্ছতার সঙ্গে স্থায়ী নিয়োগ সম্পন্ন করা।
নেতৃত্বের বক্তব্য, রায় দানের পর ১৭ দিন কেটে গেলেও সরকারের তরফ থেকে সদর্থক কোনও বার্তা পাওয়া যায়নি। তাই আর অপেক্ষা না করে তাঁরা এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায় গিয়ে নিজেদের দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শীর্ষ আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশ কী ছিল?
ডিএ মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট এর আগে যে রায় দিয়েছিল, তা সরকারি কর্মীদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। আদালত জানিয়েছিল, বকেয়া ডিএ কর্মীদের হকের টাকা এবং তা পঞ্চম বেতন কমিশনের সুপারিশ মেনেই মেটাতে হবে। নির্দেশে বলা হয়, মোট বকেয়া টাকার ২৫ শতাংশ আগামী ৬ মার্চের মধ্যে মিটিয়ে দিতে হবে এবং বাকি অর্থ কিস্তিতে প্রদান করা যেতে পারে। কিন্তু সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই রাজ্য কোনও উদ্যোগ না নেওয়ায় কর্মীরা ফের আদালতের শরণাপন্ন হলেন। এখন দেখার বিষয়, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির আন্দোলন এবং সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপে জল কোন দিকে গড়ায়।














