DA Case Update: পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘ লড়াই চলছে। কর্মীদের মনে একটাই প্রশ্ন, কবে মিলবে বকেয়া ডিএ? এই আবহে কনফেডারেশন অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ-এর সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় এবং আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের মধ্যে মামলার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে ফিরে আইনজীবী যে বার্তা দিয়েছেন, তা প্রতিটি সরকারি কর্মীর জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।
সুপ্রিম কোর্টে মামলার বর্তমান স্থিতি
আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে ডিএ মামলার শুনানির যাবতীয় সওয়াল-জবাব বা আর্গুমেন্ট পর্ব শেষ হয়েছে। মামলাটির রায়দান বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের দ্বারা সংরক্ষিত (Reserved) রাখা হয়েছে। এর অর্থ হলো, আদালতের বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ, এখন শুধুমাত্র রায় ঘোষণার অপেক্ষা। বিষয়টি যেহেতু সম্পূর্ণভাবে বিচারাধীন এবং আদালতের এক্তিয়ারভুক্ত, তাই বাইরে থেকে এই মুহূর্তে হস্তক্ষেপ করার কোনো আইনি সুযোগ নেই।
মামলা ‘মেনশন’ করার ঝুঁকি কেন?
কর্মচারী মহলে অনেকেই চাইছেন যাতে মামলাটি দ্রুত শুনানির জন্য বা রায়দানের জন্য আদালতে ফের ‘মেনশন’ (Mention) করা হোক। তবে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম এই বিষয়ে সকলকে সতর্ক করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন:
- বিপরীত প্রভাব: যখন কোনো মামলার রায় সংরক্ষিত থাকে, তখন সেই মামলা নিয়ে বারবার আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা বা মেনশন করা অনেক সময় হিতে বিপরীত হতে পারে। এতে আদালতের বিরাগভাজনের আশঙ্কা থাকে।
- ধৈর্যের প্রয়োজনীয়তা: এটি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল মামলা। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে সামান্য ভুল পদক্ষেপ গোটা মামলার ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এখন কৌশলগত কারণেই অপেক্ষা করা শ্রেয়।
অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের সংকট ও আইনি পরামর্শ
আলোচনায় উঠে এসেছে রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের করুণ অবস্থার কথা। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বাজারে নামমাত্র পেনশনে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রবীণ নাগরিকরা। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা এবং ওষুধের খরচ সামলাতে গিয়ে অনেকেই চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন।
এমতবস্থায় আইনজীবীদের পরামর্শ, আবেগতাড়িত না হয়ে আদালতের ওপর আস্থা রাখা প্রয়োজন। বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং অন্য কোনো আইনি পথ খোলা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন আইনজ্ঞরা।
সকল সরকারি কর্মচারী ও সংগঠনের প্রতি আইনজীবীদের বার্তা, মামলার গুরুত্ব বুঝে কোনো ভুল পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।














