DA Case Verdict: জানুয়ারিতেই কি মিলবে ডিএ মামলার রায়? বড় আপডেট দিলেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

DA Case Verdict: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান কি হতে চলেছে এই নতুন বছরের শুরুতেই? ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার উল্টানোর সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যজুড়ে লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মী এবং পেনশনারদের নজর এখন সুপ্রিম কোর্টের দিকে। বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) মামলার শুনানি শেষ হওয়ার পর কেটে গিয়েছে প্রায় সাড়ে তিন মাস। কিন্তু জাস্টিস সঞ্জয় কারোল এবং জাস্টিস প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মতামত জানালেন বিশিষ্ট আইনজীবী তথা এই মামলার অন্যতম কাণ্ডারি বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য।

আইনজীবীদের কাজ শেষ, এবার সিদ্ধান্ত আদালতের

ডিএ আন্দোলনকারীদের হয়ে আইনি লড়াই লড়ছেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। ‘নতুন বাংলা’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, মামলাকারী এবং আইনজীবীদের পক্ষ থেকে যা যা করণীয় ছিল, তা সবই সম্পন্ন হয়েছে। সওয়াল-জবাব পর্ব পুরোপুরি শেষ। এখন রায় কবে দান করা হবে, তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতিদের উপর। তিনি বলেন, বিচার ব্যবস্থার এই পর্যায়ে দাঁড়িয়ে নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ আগাম বলা অসম্ভব। এটি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়।

জানুয়ারি মাসেই কি মিলবে সুখবর?

রায়দানের নির্দিষ্ট তারিখ জানা না থাকলেও, নিজের দীর্ঘ আইনি অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিকাশবাবু একটি আশার আলো দেখিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, শুনানি শেষ হওয়ার পর তিনি তাঁর মক্কেলদের আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে জানুয়ারির আগে রায় আসার সম্ভাবনা খুবই কম। সেই হিসেব অনুযায়ী, চলতি জানুয়ারি মাসেই সুপ্রিম কোর্ট তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। এই খবর নিঃসন্দেহে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

রায়দানে বিলম্ব: অতীতের অভিজ্ঞতা কী বলছে?

সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শেষ হওয়ার পরেও রায় বেরোতে কেন এত দেরি হচ্ছে, সেই প্রশ্নের উত্তরে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য অতীতের বেশ কিছু মামলার নজির তুলে ধরেন। তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল নয়।

  • ১৮ মাসের অপেক্ষা: তিনি নিজের একটি মামলার উদাহরণ দিয়ে বলেন, যেখানে সওয়াল-জবাব শেষ হওয়ার পর রায় পেতে প্রায় ১৮ মাস অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
  • অবসরের আগের দিন রায়: প্রভিডেন্ট ফান্ড সংক্রান্ত অন্য একটি মামলায় সংশ্লিষ্ট বিচারপতি তাঁর অবসরের ঠিক আগের দিন রায় ঘোষণা করেছিলেন।

সাধারণত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী, শুনানি শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে রায়দান বাঞ্ছনীয়। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতির চাপে সবসময় এই সময়সীমা মেনে চলা সম্ভব হয় না বিচারকদের পক্ষে।

রায়ের পর আইনি পথ: রিভিউ নাকি লার্জার বেঞ্চ?

মামলার রায় বেরোনোর পর যদি কোনো পক্ষ অসন্তুষ্ট হয়, তবে তাদের হাতে আর কী আইনি বিকল্প খোলা থাকবে? এই বিষয়েও আলোকপাত করেছেন প্রবীণ আইনজীবী।

১. রিভিউ পিটিশন: রায় ঘোষণার পর সংক্ষুব্ধ পক্ষ ‘রিভিউ পিটিশন’ দাখিল করতে পারে। কিন্তু বিকাশবাবুর মতে, সুপ্রিম কোর্ট ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রেই রিভিউ পিটিশনে হস্তক্ষেপ করে না বা রায় পরিবর্তন করে না। তাই এটি খুব একটা কার্যকরী পথ নাও হতে পারে।
২. লার্জার বেঞ্চের সম্ভাবনা: সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দুই বিচারপতির ঐকমত্য। যদি জাস্টিস সঞ্জয় কারোল এবং জাস্টিস প্রশান্ত কুমার মিশ্রের মধ্যে রায়ের বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়, একমাত্র তখনই মামলাটি লার্জার বেঞ্চ বা বৃহত্তর বেঞ্চে স্থানান্তরিত হবে। আর যদি এমনটা হয়, তবে মামলাটি আবার নতুন করে শুনানির পর্যায়ে চলে যাবে, যা দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়।

বর্তমানে রাজ্যের অসংখ্য সরকারি কর্মচারী চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছেন সুপ্রিম কোর্টের দিকে। বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বিশ্লেষণ অনুযায়ী জানুয়ারি মাসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন