DA Strike: কালীঘাট অভিযানের পর ধর্মঘটের ডাক! ১৩ই মার্চ রাজ্য অচল করার হুঁশিয়ারি সরকারি কর্মীদের

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

DA Strike: বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (DA) দাবিতে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল কলকাতার রাজপথ। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মিছিলকে কেন্দ্র করে ধর্মতলা চত্বরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে তুমুল ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এই সংঘাতের আবহে নিজেদের দাবিতে অনড় থেকে আগামী ১৩ই মার্চ রাজ্যজুড়ে সর্বাত্মক ধর্মঘটের ডাক দিল ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’ সহ একাধিক কর্মী সংগঠন।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে বকেয়া ডিএ মেটানোর দাবিতে এদিন ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেল থেকে কালীঘাট পর্যন্ত মিছিলের পরিকল্পনা ছিল সরকারি কর্মীদের। কিন্তু পুলিশের ব্যারিকেডে সেই মিছিল আটকা পড়তেই পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে ওঠে।

পুলিশি বাধার মুখে রাজপথে অবস্থান

এদিন মিছিল শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম ও লিন্ডসে স্ট্রিটের সংযোগস্থলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের পথ আটকায়। সরকারি কর্মীদের দাবি ছিল, অন্তত হাজরা মোড় পর্যন্ত মিছিল নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, হাজরা পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি নেই এবং ব্যারিকেড সরানো সম্ভব নয়।

এই নিয়ে পুলিশের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বাদানুবাদ চলে আন্দোলনকারীদের। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কর্মীরা রাস্তাতেই বসে পড়েন। এর ফলে শহরের প্রাণকেন্দ্রে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, রাজ্যের মুখ্যসচিব বা মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি এসে কথা বলতে হবে। বিকেল চারটে নাগাদ অবশেষে এই অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

১৩ই মার্চ কেন ধর্মঘট?

প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় কোনও সমাধান না মেলায় আন্দোলনের ঝাঁজ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। তাদের মূল দাবিগুলি হল:

  • বকেয়া ডিএ: আদালতের নির্দেশ মতো পঞ্চম ও ষষ্ঠ বেতন কমিশনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে।
  • নিয়োগ প্রক্রিয়া: সরকারি দপ্তরে দিনের পর দিন জমে থাকা শূন্যপদগুলোতে স্বচ্ছভাবে দ্রুত নিয়োগ করতে হবে।
  • স্থায়ী সমাধান: অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ীকরণ এবং সমকাজে সমবেতনের দাবি।

দাবি পূরণ না হওয়ায় আগামী ১৩ই মার্চ রাজ্যের সমস্ত স্কুল, কলেজ ও সরকারি দপ্তরে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। ওই দিন স্থায়ী ও অস্থায়ী—উভয় ধরনের কর্মীরাই কর্মবিরতিতে শামিল হবেন বলে জানানো হয়েছে।

রাজনৈতিক রং ও সরকারের বক্তব্য

এদিনের মিছিলে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে বাম ও বিজেপি সমর্থিত কর্মী সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ সরকারি কর্মীরাও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাস্তায় নামেন। তবে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এই আন্দোলনকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে।

শাসক দলের নেতৃত্বের মতে, সামনেই লোকসভা ভোট, তাই বিরোধীরা ছদ্মবেশে রাজ্যে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধ্যমতো কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং ধাপে ধাপে ডিএ বাড়িয়েছেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের প্রাপ্য বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে রাখায় যে আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে আন্দোলনকারীরা নীরব কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজ্য সরকার।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন