Donald Trump | বাঘ নয়, রাশিয়া ভালুক, জবাব মস্কোর ভারত অর্থদাতা, ট্রাম্পের সঙ্গে ভিন্ন মত জেলেনস্কির

By Bangla News Dunia Dinesh

Published on:

উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ ইউক্রেনে (New york) যুদ্ধ চালিয়ে যেতে রাশিয়াকে অর্থের জোগান দিচ্ছে ভারত এবং চিন। মঙ্গলবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় এমনটাই দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর কথায়, ‘ভারত এবং চিন রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রাথমিক অর্থদাতায় পরিণত হয়েছে।’ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক যে ইউক্রেন সংকট কাটাতে ব্যর্থ হয়েছে, সেকথাও স্বীকার করে নিয়েছেন ট্রাম্প। রাশিয়াকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি।
ভারত, চিন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে আমেরিকার শীর্ষনেতার যুগপৎ তোপ দাগার ঘণ্টাকয়েক বাদে ভিন্ন মত শোনা গেল ইউক্রেনের (New york) প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির তরফে। বুধবার এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে তেল বাণিজ্য বজায় রাখার পরেও ভারত অনেকাংশে ইউক্রেনের পক্ষে রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘আমার মতে, ভারত অনেকাংশে আমাদের পক্ষে রয়েছে। হ্যাঁ, জ্বালানি নিয়ে আমাদের কিছু প্রশ্ন রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এটা সামলে নিতে পারবেন বলে মনে হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে মজবুত সম্পর্ক গড়ে তুলেছে ইউরোপ। সেই সম্পর্ক বজায় রাখতে আমাদের সবকিছু করতে হবে। আমি নিশ্চিত যে ওরা (ভারত) রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করবে।’
ভারত সম্পর্কে আশাবাদী হলেও চিনকে নিয়ে হতাশ জেলেনস্কি। তাঁর বক্তব্য, ‘চিনের ক্ষেত্রে এটা (রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করা) অনেক বেশি কঠিন। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়াকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করা চিনের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’ প্রেসিডেন্ট পদের দায়িত্ব নেওয়ার পর রাশিয়ার শর্ত মেনে যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইউক্রেনের ওপর চাপ তৈরি করেছিলেন ট্রাম্প। যার জেরে আমেরিকা ও ইউক্রেনের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল। ইদানীং আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন ট্রাম্প। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি শেষপর্যন্ত ইউক্রেনের পাশে থাকবেন বলে আশাপ্রকাশ করেন জেলেনস্কি। প্রেসিডেন্ট পুতিন সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন, ‘পুতিন বুঝতে পারছেন যে তিনি জিতছেন না। কিন্তু সবাইকে বলছেন যে তিনিই জিতবেন।’
ট্রাম্প, জেলেনস্কির মন্তব্য ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। পর্যবেক্ষকদের মতে, আলাস্কা বৈঠকের পর ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থানে নীতিগত বদল ঘটেছে। আলাস্কায় পুতিনকে লাল কার্পেট বিছিয়ে সম্মান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। বৈঠকের জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন নিজের গাড়িতে। তাঁর আশা ছিল, ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে পুতিনকে ইউক্রেন অভিযান থেকে বিরত রাখতে পারবেন। শেষপর্যন্ত ট্রাম্পকে নিরাশ হতে হয়েছে। নিউ ইয়র্কে সাধারণ সভার ফাঁকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাঁক্রোকে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি ভেবেছিলাম পুতিনের সঙ্গে আমার সম্পর্কের কারণে এটি (যুদ্ধ বন্ধ করা) খুব সহজ হবে। দুর্ভাগ্যবশত সেই সম্পর্ক কাজে আসেনি।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টকে জবাব দিয়েছেন পুতিন। এদিন ক্রেমলিন থেকে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ট্রাম্প একজন ব্যবসায়ী। তিনি গোটা বিশ্বকে চড়া দামে আমেরিকার তেল ও গ্যাস কিনতে বাধ্য করতে চাইছেন।’ কাগুজে বাঘ ইস্যুতে পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভের বক্তব্য, ‘আমরা মূলগতভাবে নিজেদের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পেরেছি। রাশিয়া চিরকাল একটি ভালুক, বাঘ নয়। আর কাগুজে ভালুক বলে কোনও কথা নেই।’

Bangla News Dunia Dinesh

মন্তব্য করুন