Election Duty Training: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন: পোলিং কর্মীদের ট্রেনিং নিয়ে নির্বাচন কমিশনের একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

Election Duty Training: আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভোটগ্রহণের প্রতিটি পর্যায়ে যাতে চূড়ান্ত স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং কোনোভাবেই কোনো ভোটারের ভোটাধিকার প্রয়োগে বিঘ্ন না ঘটে, তার জন্য ভোটকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রিসাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে পোলিং অফিসার এবং মাইক্রো অবজার্ভারদের জন্য এই বিশেষ প্রশিক্ষণ পর্ব মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহ বা এপ্রিলের শুরুতে শুরু হতে চলেছে। নির্বাচন কমিশনের এই আগাম প্রস্তুতির মূল লক্ষ্যই হলো ভোট প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি না রাখা।

প্রশিক্ষণ শুরুর আগে ভোটকর্মীদের প্রাথমিক দায়িত্ব

ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে কর্মীদের নিজেদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র যাচাই করে নেওয়া একান্ত প্রয়োজন। অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটারে দেওয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং আইএফএসসি কোডটি ভালোভাবে মিলিয়ে দেখতে হবে। কারণ, এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই ভোটের ডিউটির পারিশ্রমিক সরাসরি কর্মীদের কাছে পৌঁছাবে। কোনো ভুল থাকলে প্রথম দিনেই তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানাতে হবে। এছাড়াও, নিজস্ব এপিক কার্ডের তথ্য, পার্ট এবং সিরিয়াল নম্বর যাচাই করার পাশাপাশি, নির্দিষ্ট স্ট্যাম্পসহ পাসপোর্ট সাইজ ছবি লাগানো আইডেন্টিটি কার্ড সাথে রাখা বাধ্যতামূলক। নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রথম দিনের ট্রেনিংয়েই পোস্টাল ব্যালট (ফর্ম ১২ এবং ১২এ) সংক্রান্ত কাজ সেরে ফেলতে হবে। ইডিসি-র প্রয়োজন হলে দ্বিতীয় দিনে বা পি-মাইনাস ওয়ান দিনে ফর্ম ১২বি সংগ্রহ করা যাবে।

ইভিএম ও ভিভিপ্যাট ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি

ভোটের দিন মেশিন খারাপ হওয়া বা কাজ না করার মতো সমস্যা এড়াতে এবার প্রিসাইডিং ও ফার্স্ট পোলিং অফিসারদের জন্য ছোট ছোট দলে (৪০ থেকে ৫০ জন) হাতে-কলমে ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই মক ড্রিলগুলোতে অংশগ্রহণ করার পর প্রত্যেক কর্মীকে একটি স্যাটিসফ্যাকশন সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে। এর অর্থ হলো, ওই কর্মী সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ও আত্মবিশ্বাসের সাথে ভোটিং মেশিন পরিচালনা করতে সক্ষম।

প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নয়া নির্দেশিকা

নির্বাচন কমিশনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভোটদান প্রক্রিয়াকে আরও নিখুঁত করতে বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

  • অন্ধ ও বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ভোটার: এই ধরণের ভোটারদের ক্ষেত্রে ফর্ম ১৪এ খুব সতর্কতার সাথে পূরণ করতে হবে। এর সাথে সাহায্যকারীর ঘোষণাপত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক।
  • ভোটের হিসাব ও টেস্ট ভোট: রুল ৪৯এমএ অনুসারে টেস্ট ভোটের নিয়ম এবং ফর্ম ১৭সি-তে ভোটের নির্ভুল হিসাব রাখার পদ্ধতি শেখানো হবে।
  • অ্যাপ ও মোবাইল কাউন্টার: এখন থেকে প্রিসাইডিং অফিসারদের ইসিআই নেট অ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য সরাসরি আপলোড করতে হবে। পাশাপাশি, সাধারণ ভোটারদের সুবিধার জন্য প্রতিটি বুথে মোবাইল ফোন জমা রাখার আলাদা ব্যবস্থা থাকবে।

মক পোল এবং সিলিং প্রক্রিয়া

ভোট শুরুর আগে মক পোল করা, এরপর মেশিনের ডেটা ক্লিয়ার করে ক্লোজ ও রেজাল্ট বা সিআরসি সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি। এরপর ভিভিপ্যাটের ব্ল্যাক বক্স থেকে শুরু করে বিভিন্ন রঙের পেপার সিল দিয়ে সঠিকভাবে সিলিং করতে হবে। ভোটগ্রহণ শেষে জিনিসপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও রিসিভিং সেন্টারে নতুন প্যাকেটিং পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। প্রথম দিনেই কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে নির্দেশিকা সম্বলিত হ্যান্ডবুক, চেকলিস্ট এবং সিনোপটিক হ্যান্ডআউট।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন