Gold Price: উৎসবের মরসুমে সোনা কেনার হিড়িক ছিল তুঙ্গে। ধনতেরাসে দাম বেশি থাকা সত্ত্বেও, মানুষ শুভ অনুষ্ঠানে সোনা কিনেছেন। কিন্তু দিওয়ালি শেষ হতেই কি দাম কমবে? বাজার বিশেষজ্ঞরা কিন্তু তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, আগামী সপ্তাহ থেকেই সোনার দামে পতন দেখা যেতে পারে। এই পতনকে তাঁরা একটি ‘অস্থায়ী বিরতি’ (temporary slowdown) হিসেবে দেখছেন।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর এই পূর্বাভাস ক্রেতা এবং বিনিয়োগকারী, উভয়ের মনেই নতুন আশার সঞ্চার করেছে। কিন্তু এই দাম কমার পেছনে আসল কারণ কী? আর এই সুযোগ কতটা কাজে লাগানো উচিত? আসুন বিশেষজ্ঞদের মতামত বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
কেন সোনার দাম কমার সম্ভাবনা?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দিওয়ালি এবং ধনতেরাসের সময় উৎসবের কারণে সোনার চাহিদা ছিল তুঙ্গে। এই বিপুল চাহিদার কারণেই দাম বেড়েছিল। এসএস ওয়েলথস্ট্রিটের প্রতিষ্ঠাতা সুগন্ধা সচদেবার মতে, সোনা বর্তমানে ‘ওভারবট জোন’ (overbought zone)-এ রয়েছে, অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কেনাকাটা হয়ে গেছে।
উৎসব শেষ হওয়ার সাথে সাথেই এই চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই কমে যাবে। চাহিদার এই ঘাটতিই দাম কমার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এছাড়াও, গত কয়েক সপ্তাহে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার (যেমন রাশিয়া-ইউক্রেন এবং ইজরায়েল-হামাস পরিস্থিতি) কারণে সোনাকে ‘নিরাপদ বিনিয়োগ’ (safe investment) হিসেবে গণ্য করা হচ্ছিল, যা দাম বাড়িয়েছিল। বর্তমানে সেই উত্তেজনা কিছুটা কমার ইঙ্গিত মেলায় সোনার দাম নিম্নমুখী হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আর কোন বিষয়গুলির দিকে নজর রাখছেন?
জেএম ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের কমোডিটি অ্যান্ড কারেন্সি রিসার্চের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রণব মের জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীরা বর্তমানে এমন একাধিক আন্তর্জাতিক সূচকের দিকে নজর রাখছেন, যা আগামী সপ্তাহে সোনার দামকে সরাসরি প্রভাবিত করবে।
- আন্তর্জাতিক ডেটা: চিনের অর্থনৈতিক ডেটা এবং যুক্তরাজ্যের মুদ্রাস্ফীতির হার।
- মার্কিন অর্থনীতি: ইউএস কনজিউমার কনফিডেন্স ডেটা এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের বিষয়ে সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত।
- ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি: আমেরিকা ও চিনের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনার সম্ভাবনা এবং যুদ্ধবিরতির আশা। এই পরিস্থিতিগুলি স্বাভাবিক হলে সোনার ওপর থেকে বিনিয়োগের চাপ কমবে, ফলে দামও কমবে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ: এখনই কি সোনা কেনা উচিত?
বিশেষজ্ঞরা দাম কমার পূর্বাভাস দিলেও, তাঁরা এটিকে একটি স্বল্পমেয়াদী সুযোগ হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন। এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা এবং সুবর্ণ সুযোগ দুই-ই।
সুগন্ধা সচদেবার মতে, এই সাময়িক পতনের পর সোনার দাম আবার বড়সড় লাফ দিতে পারে। তিনি পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, এই বিরতির পর সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৪৫,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
সুতরাং, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, দিওয়ালির পর দাম যখনই কমবে, সেটিই হবে সোনা কিনে রাখার সেরা সময়। বিশেষ করে যাঁরা ভবিষ্যতের জন্য (যেমন বিবাহ) বা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে সোনা কেনার কথা ভাবছেন, তাঁরা এই পতনের সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেন। উৎসবের মরসুম শেষ হলেই বিয়ের মরসুম শুরু হয়, তাই দাম কমার এই সুযোগ হাতছাড়া করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
দ্রষ্টব্য: বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই আপনার বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য প্রকাশিত এবং আমরা কোনো রকম বিনিয়োগের পরামর্শ দিই না।














