HRA Exemption: বেতনভুক কর্মচারীদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর সামনে আসছে। এতদিন পর্যন্ত আয়করের নিয়ম অনুযায়ী শুধুমাত্র দিল্লি, মুম্বাই, কলকাতা এবং চেন্নাই—এই চারটি মেট্রো শহরে বসবাসকারী কর্মচারীরাই বাড়ি ভাড়া ভাতা বা HRA-এর ওপর ৫০ শতাংশ কর ছাড়ের সুবিধা পেতেন। কিন্তু দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সরকার এই তালিকায় বড়সড় পরিবর্তনের প্রস্তাব এনেছে।
প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আরও চারটি বড় শহরের চাকরিজীবীরা এই বর্ধিত কর ছাড়ের সুবিধা পেতে পারেন।
কোন কোন শহর নতুন তালিকায় যুক্ত হতে পারে?
কেন্দ্রীয় সরকারের খসড়া নিয়ম বা ড্রাফট রুলের ২৭৯ নম্বর বিধি অনুযায়ী, ‘মেট্রো সিটি’-র সংজ্ঞায় বদল আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রস্তাবনা কার্যকর হলে পুরনো চারটি মেট্রোপলিটন শহরের পাশাপাশি বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ, পুনে এবং আহমেদাবাদ—এই চারটি শহরও মেট্রো শহরের তকমা পাবে।
গত এক দশকে এই শহরগুলি তথ্যপ্রযুক্তি, স্টার্টআপ এবং বিভিন্ন পরিষেবা মূলক শিল্পের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। ফলে এখানে জীবনযাত্রার খরচ এবং বাড়ি ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দিতেই সরকার এই শহরগুলিকে ৫০ শতাংশ HRA ছাড়ের আওতায় আনার কথা ভাবছে।
কর ছাড়ের হিসেবে কী পরিবর্তন আসবে?
বর্তমানে মেট্রো শহর বাদে অন্য যেকোনো শহরে বসবাসকারী কর্মচারীরা তাদের মূল বেতনের (Basic Salary) ৪০ শতাংশ পর্যন্ত HRA করমুক্ত হিসেবে দাবি করতে পারেন। কিন্তু প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, নতুন যুক্ত হওয়া ওই চারটি শহরে বসবাসকারীরাও এখন ৫০ শতাংশ হারে ছাড় পাবেন।
তবে HRA গণনার মৌলিক পদ্ধতি অপরিবর্তিতই থাকছে। কর ছাড়ের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে নিচের তিনটি অংকের মধ্যে যেটি সবথেকে কম, তার ভিত্তিতে:
- কর্মচারী যে পরিমাণ HRA বাবদ টাকা পাচ্ছেন।
- বাৎসরিক বাড়ি ভাড়া থেকে বেতনের ১০ শতাংশ বাদ দিলে যা থাকে।
- শহর অনুযায়ী বেতনের ৫০ শতাংশ (মেট্রো) বা ৪০ শতাংশ (নন-মেট্রো)।
কাদের জন্য এই নিয়ম প্রযোজ্য?
এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট মনে রাখা দরকার যে, এই HRA ছাড়ের সুবিধা শুধুমাত্র তাঁরাই পাবেন, যাঁরা পুরনো কর ব্যবস্থা বা Old Tax Regime বেছে নিয়েছেন। নতুন কর কাঠামোতে (New Tax Regime) আয়করের স্ল্যাব রেট কম হলেও, সেখানে HRA বা অন্য অনেক ধরণের কর ছাড়ের (Deduction) সুবিধা পাওয়া যায় না।
সরকারের এই প্রস্তাবিত পদক্ষেপ বা স্কডিউল ৩-এর খসড়া কাঠামো যদি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়, তবে লক্ষ লক্ষ চাকরিজীবী মানুষ, বিশেষ করে যারা ভারতের সিলিকন ভ্যালি বা আইটি হাবগুলোতে কর্মরত, তাঁরা আর্থিকভাবে অনেকটাই লাভবান হবেন।
দাবিত্যাগ: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য এবং এটি কোনো প্রকার আর্থিক পরামর্শ নয়। কর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট বা কর উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।














