Income Tax Refund: অনেক করদাতাই ২০২৫-২৬ অ্যাসেসমেন্ট ইয়ারের (AY) আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পর অধীর আগ্রহে রিফান্ডের অপেক্ষা করছেন। কিন্তু ইনকাম ট্যাক্স পোর্টালে উপলব্ধ সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৬১ লক্ষ রিটার্ন প্রসেস বা প্রক্রিয়াকরণ করা বাকি রয়েছে। এর ফলে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ তাঁদের প্রাপ্য টাকা ফেরত পেতে দীর্ঘায়িত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ছিল বিলম্বে (Belated) রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। এই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও রিফান্ড না আসায় স্বাভাবিকভাবেই করদাতাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। তবে, এই বিলম্বের পিছনে আয়কর দপ্তরের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম এবং আইনি সংস্থান রয়েছে যা বোঝা অত্যন্ত জরুরি।
ইনকাম ট্যাক্স দপ্তরের আইনি সময়সীমা
অনেকেই ভাবেন রিটার্ন জমার সাথে সাথেই হয়তো প্রসেসিং শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু আয়কর আইনের সেকশন ১৪৩(১) অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরের রিটার্ন প্রসেস করার জন্য আয়কর দপ্তরের হাতে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে। অর্থাৎ, করদাতা হিসেবে আপনি ডেডলাইন মিস করলে সমস্যা হতে পারে, কিন্তু দপ্তর চাইলে প্রসেসিং শেষ করার জন্য এক বছরের আইনি সময়সীমা বা ‘উইন্ডো’ ব্যবহার করতে পারে। এই সময়ের মধ্যে প্রসেসিং শেষ না হলে দপ্তরের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।
বিলম্বের কারণ: তথ্যের অমিল ও কড়াকড়ি
এবারের রিফান্ড প্রক্রিয়ায় বিলম্বের অন্যতম প্রধান কারণ হলো তথ্যের গরমিল। আয়কর দপ্তর এবার ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত কঠোর করেছে। আপনার জমা দেওয়া তথ্যের সঙ্গে যদি নিম্নলিখিত সরকারি নথির তথ্যের মিল না থাকে, তবে প্রসেসিং আটকে যাচ্ছে:
- Form 26AS
- Annual Information Statement (AIS)
- Taxpayer Information Summary (TIS)
বিশেষ করে যাদের রিফান্ড ক্লেমের পরিমাণ বেশি বা যারা ফর্ম-১৬ (Form 16) এর বাইরে অতিরিক্ত ডিডাকশন দাবি করেছেন, তাঁদের রিটার্ন খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। বেতনভুক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রক্রিয়াটি দ্রুত হয়, কিন্তু তথ্যে অসঙ্গতি থাকলে তারাও ছাড় পাচ্ছেন না। এমনকি সিনিয়র সিটিজেনরাও, যাদের শুধুমাত্র পেনশন ও সুদের আয় আছে, তথ্যের অমিল থাকলে তাঁদের রিফান্ডও আটকে যাচ্ছে।
রিফান্ডে দেরি হলে কি সুদ পাওয়া যাবে?
রিফান্ড পেতে দেরি হলে করদাতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবরও রয়েছে। আয়কর আইনের সেকশন ২৪৪এ (Section 244A) অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্তে করদাতারা বিলম্বিত রিফান্ডের ওপর সুদ পাওয়ার যোগ্য।
- সুদের হার: প্রতি মাসে ০.৫% হারে সুদ দেওয়া হয়।
- গণনার নিয়ম: সাধারণত ট্যাক্স পেমেন্টের তারিখ বা রিটার্ন জমার তারিখ—যেটি পরে হবে, সেই দিন থেকে রিফান্ড পাওয়ার দিন পর্যন্ত এই সুদ গণনা করা হয়।
তবে এখানে একটি বড় শর্ত রয়েছে। যদি আপনার রিফান্ডের পরিমাণ আপনার দেওয়া মোট ট্যাক্সের ১০ শতাংশের কম হয়, তাহলে কোনো সুদ দেওয়া হবে না।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| প্রসেসিং ডেডলাইন | ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ |
| সুদের হার | মাসে ০.৫% (শর্তসাপেক্ষে) |
| প্রভাবিত সংখ্যা | ৬১ লক্ষ রিটার্ন (জানুয়ারি ৬, ২০২৬ পর্যন্ত) |
যাদের রিটার্নে কোনো রিফান্ড বা বকেয়া ট্যাক্স (Tax Demand) নেই, তাদের ক্ষেত্রে এই বিলম্ব বিশেষ প্রভাব ফেলছে না। কিন্তু যারা বড় অঙ্কের ফেরতের আশায় আছেন, তাঁদের ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে, যদি না তথ্যের গরমিল দ্রুত সমাধান হয়।














