উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) পার হল ভারতের পতাকাবাহী সপ্তম এলপিজি ট্যাংকার (LPG Tanker) ‘গ্রিন সানভি’ (Green Sanvi)। শুক্রবার নির্বিঘ্নে এই জলপথ অতিক্রম করার পর, নয়াদিল্লির উদ্দেশে এক বিশেষ বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠিয়েছে ইরান (India-Iran Diplomacy)। এই ঘটনাকে ভারতীয় কূটনীতির বড় জয় হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
মুম্বইয়ে অবস্থিত ইরানের কনসুলেট জেনারেল সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংভির একটি পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় জানান, ভারত এবং বিশেষ করে গুজরাটের সঙ্গে ইরানের এক গভীর ঐতিহাসিক ও সভ্যতাগত যোগসূত্র রয়েছে। কয়েক শতাব্দী আগে ইরান থেকে আসা মানুষদের ভারত যেভাবে আশ্রয় দিয়েছিল, তার উল্লেখ করে ইরান জানায়, এই বন্ধুত্বের সম্পর্ক আগামীতে আরও সুদৃঢ় হবে। ধারণা করা হচ্ছে, লোথাল বন্দরের সেই প্রাচীন সম্পর্কের দিকেই ইঙ্গিত করেছে ইরান।
India, & #Gujarat in particular, hold a cherished place in our shared history; having graciously welcomed those from our land centuries ago.
Building on this enduring civilizational bond, we remain committed to further strengthening the ties of friendship & cooperation.#Iran https://t.co/KHruteGkY2
— Consulate General of the I.R. Iran in Mumbai (@IRANinMumbai) April 4, 2026
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ‘শত্রু দেশ’গুলোর জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। তবে ভারত সহ মাত্র পাঁচটি ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ (ভারত, রাশিয়া, চিন, ইরাক ও পাকিস্তান)-এর জন্য এই করিডোর খোলা রেখেছে তেহরান।
‘গ্রিন সানভি’ জাহাজটিতে প্রায় ৪৬,৬৫০ মেট্রিক টন এলপিজি রয়েছে। এ পর্যন্ত মোট সাতটি এলপিজি ট্যাংকার এই সংকটকালীন সময়ে ভারতে পৌঁছেছে। যদিও হরমুজের পশ্চিমে এখনও ভারতের প্রায় ১৭টি জাহাজ আটকে রয়েছে।
ইতিমধ্যে গুঞ্জন উঠেছিল যে, অর্থপ্রদান সংক্রান্ত সমস্যার কারণে ইরান থেকে আসা একটি তেলের জাহাজ চিন অভিমুখে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে শনিবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক এই দাবি কড়াভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের তরফে জানানো হয়েছে, ইরান থেকে তেল আমদানিতে পেমেন্ট সংক্রান্ত কোনও বাধা নেই এবং ভারতের শোধনাগারগুলি তাদের প্রয়োজনীয় তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। আমেরিকার পক্ষ থেকে গত মাসেই তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়ার পর, এই প্রথম ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান থেকে তেল আমদানির বিষয়টি নিশ্চিত করল। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল সময়ে ভারতের এই কৌশলগত সাফল্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।














