Indian Economy 2026: ২০২৬ সাল কি ভারতীয় অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেবে? জানুন কেন এই বছরটি ভারতের জন্য ‘গোল্ডিলক মোমেন্ট’

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

Indian Economy 2026: ২০২৬ সালটি ভারতীয় অর্থনীতির জন্য একটি ঐতিহাসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড় বা ‘ইনফ্লেকশন পয়েন্ট’ (Inflection Point) হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারত বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা একে ভারতের জন্য একটি ‘গোল্ডিলক মোমেন্ট’ (Goldilocks Moment) হিসেবে অভিহিত করছেন। এর অর্থ হলো এমন একটি আদর্শ পরিস্থিতি, যেখানে একদিকে দেশের জিডিপি (GDP) দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতি বা মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

২০২৬ সালের টাইমিং কেন এত বিশেষ?

গত কয়েক বছরে ভারত সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার সম্মিলিত সুফল ২০২৬ সালে দৃশ্যমান হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এটি কোনো একটি নির্দিষ্ট নীতির ফল নয়, বরং একাধিক বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টিগত প্রভাব। এর মধ্যে রয়েছে:

  • সদ্য স্বাক্ষরিত বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তি (Trade Agreements)
  • দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ক্ষমতা (Domestic Manufacturing Capacity) বৃদ্ধি, যা এখন রপ্তানির জন্য প্রস্তুত।
  • ট্যারিফ বা শুল্ক নীতিতে বড়সড় পরিবর্তন।

নীতিগত সংস্কারের প্রভাব এবং সময়কাল

অর্থনীতিতে কোনো বড় পরিবর্তনের প্রভাব রাতারাতি দেখা যায় না। সাধারণত এর সুফল পেতে ৩ থেকে ৬ বছর সময় (Gestation Period) লাগে।

  • PLI স্কিম (২০২০-২১): ২০২০-২১ সালে শুরু হওয়া প্রোডাকশন লিংকড ইনসেনটিভ স্কিমের সবথেকে বড় প্রভাব ২০২৬ সালেই দেখা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
  • নতুন এফটিএ (২০২২-২৪): ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলোর ফলাফল ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সামনে আসবে।
  • পরিকাঠামো উন্নয়ন: ২০২১ সালে নেওয়া ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগগুলোর লাভ ২০২৫-এর পর থেকে মিলতে শুরু করবে।
  • সাপ্লাই চেইন রি-লোকেশন: এর প্রভাব ২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে।

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ (FTAs)

ভারত সম্প্রতি বেশ কিছু গেম-চেঞ্জিং বাণিজ্যে চুক্তি করেছে, যার সুফল এখন মিলতে শুরু করবে:

  • ভারত-অস্ট্রেলিয়া ট্রেড ডিল: ১ জানুয়ারি থেকে ভারত অস্ট্রেলিয়ায় ১০০% ট্যারিফ লাইনে ‘জিরো ডিউটি এক্সেস’ পাচ্ছে। অর্থাৎ, টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য, ইঞ্জিনিয়ারিং গুডস এবং গয়নার মতো ভারতীয় পণ্য অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি করতে কোনো ট্যাক্স লাগবে না। এর ফলে ভারতীয় পণ্য অস্ট্রেলিয়ার বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।
  • ইউকে ও অন্যান্য দেশ: যুক্তরাজ্যের সাথেও আলোচনা চলছে, যা ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের দরজা খুলে দিতে পারে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জিসিসি (GCC), কানাডা, চিলি এবং পেরুর সাথেও কথাবার্তা চলছে। ২০২৬ সালের মধ্যে বড় চুক্তিগুলো সম্পন্ন হলে, বিশ্ব জিডিপির ৪০% বাজারে ভারত অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার (Preferential Access) পেতে পারে।

উৎপাদন এবং পিএলআই (PLI)

শুধুমাত্র ট্রেড ডিল সাইন করাই যথেষ্ট নয়, সেই সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য শক্তিশালী উৎপাদন ব্যবস্থাও প্রয়োজন। পিএলআই স্কিমের আওতায় ভারত এখন আমদানিনির্ভর দেশ থেকে রপ্তানিমুখী ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে পরিণত হচ্ছে। ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল, ইভি (EV), ফার্মা, সোলার মডিউল এবং ক্যাপিটাল গুডসের মতো ক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। ২০২৬ সালের মধ্যে অনেক কারখানা তাদের সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতায় পৌঁছে যাবে, ফলে উৎপাদন খরচ কমবে এবং ভারত গ্লোবাল ভ্যালু চেইনে শক্ত অবস্থান নেবে।

পরিকাঠামো এবং লজিস্টিকস

রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য লজিস্টিকস খরচ কমানো অত্যন্ত জরুরি। ‘পিএম গতি শক্তি’, ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডোর এবং বন্দর আধুনিকীকরণের ফলে ভারতে এখন লজিস্টিকস খরচ দ্রুত কমছে। পোর্ট থেকে ফ্যাক্টরি পর্যন্ত কানেক্টিভিটি উন্নত হয়েছে এবং পণ্য পরিবহনের সময় বা টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম (Turnaround Time) কমেছে। ভারত এখন লজিস্টিকস দক্ষতার দিক থেকে ভিয়েতনাম এবং পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সমকক্ষ হয়ে উঠছে।

‘চায়না প্লাস ওয়ান’ এবং ভারতের সুযোগ

২০২৬ সালে বিশ্বের কেন ভারতকে প্রয়োজন? এর প্রধান কারণ হলো ‘চায়না প্লাস ওয়ান’ (China Plus One) কৌশল। বহুজাতিক কোম্পানিগুলো চিনের ওপর তাদের নির্ভরতা কমাতে চাইছে এবং ভারত তাদের সামনে সেরা বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে। ভারতের বিশাল বাজার, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ক্রমবর্ধমান ভোক্তা এবং দক্ষ শ্রমিকের জোগান—এই বিষয়গুলো বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই (FDI) বাড়াতে সাহায্য করবে।

ঝুঁকি এবং চ্যালেঞ্জ

যদিও ২০২৬ সাল একটি বড় সুযোগ, তবে এটি সাফল্যের কোনো নিশ্চিত গ্যারান্টি নয়। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা, জিওপলিটিক্যাল বা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ট্রেড ওয়ারের মতো ঝুঁকিগুলো মাথায় রাখতে হবে। এছাড়া পরিকাঠামো ও শ্রম সংস্কারের সঠিক বাস্তবায়ন এবং পণ্যের গুণমান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

পরিশেষে বলা যায়, ২০২৬ সাল ভারতীয় অর্থনীতির জন্য এক অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। ভারত এই সুযোগকে কতটা কাজে লাগাতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন