উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সীমান্তে সন্ত্রাসবাদ ও আলোচনার টেবিল যে একসঙ্গে চলতে পারে না, তা ফের বিশ্বমঞ্চে স্পষ্ট করে দিল ভারত। রাষ্ট্রসংঘে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানকে কার্যত তুলোধোনা করে নয়াদিল্লি জানিয়ে দিল, যতদিন না ইসলামাবাদ সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ করছে, ততদিন ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Water Treaty) নিয়ে কোনও আলোচনা সম্ভব নয় (India-Pakistan)। গত বছর জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদী হামলার জেরে গত এপ্রিল মাস থেকেই এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি স্থগিত রেখেছে ভারত। বিশ্ব জল দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রসংঘের (UN) অনুষ্ঠানে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পি হরিশ স্পষ্ট ভাষায় জানান, চুক্তির পবিত্রতা রক্ষার দাবি জানানোর আগে পাকিস্তানকে অবশ্যই মানব জীবনের পবিত্রতা রক্ষা করতে শিখতে হবে।
পি হরিশ তাঁর বক্তব্যে পাকিস্তানকে ‘বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসের কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন যে, ‘ভারত বরাবরই একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে আচরণ করে এসেছে, কিন্তু দায়িত্ববোধ সর্বদা দ্বিমুখী হওয়া উচিত। পাকিস্তান যেভাবে সন্ত্রাসবাদকে তাদের রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ ভারতের দাবি, অত্যন্ত সৎ উদ্দেশ্য এবং বন্ধুত্বের সদিচ্ছা নিয়েই ১৯৬০ সালে এই জলবণ্টন চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হয়েছিল। কিন্তু বিনিময়ে পাকিস্তান তিনটি বড় যুদ্ধ এবং হাজার হাজার সন্ত্রাসবাদী হামলা চালিয়ে ভারতের সেই বিশ্বাসভঙ্গ করেছে। পাক মদতপুষ্ট এই হিংসায় বিগত কয়েক দশকে বহু নিরীহ ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছেন।
রাষ্ট্রসংঘের এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল সকলের জন্য নিরাপদ জল ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা। সেখানে পাকিস্তান নিজেদের ‘ক্ষতিগ্রস্ত দেশ’ হিসেবে তুলে ধরে বিশ্ববাসীর সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করলে ভারত তীব্র প্রতিবাদ জানায়। নয়াদিল্লি স্পষ্ট করে দিয়েছে, পাকিস্তান তার আচরণ না শুধরানো পর্যন্ত সিন্ধু জলবণ্টন নিয়ে কোনও কথা হবে না। উল্লেখ্য, পহেলগাঁও কাণ্ডের পর ভারত একের পর এক কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে এই জলচুক্তি স্থগিত রাখা অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত। যদিও পাকিস্তান এই পদক্ষেপকে ভিয়েনা চুক্তির লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে, কিন্তু ভারত নিজের অবস্থানে অনড় থেকে জানিয়ে দিয়েছে যে সন্ত্রাস ও আলোচনা কখনওই পাশাপাশি চলতে পারে না।














