Iran Ceasefire Terms | যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ট্রাম্পের, পালটা ‘শর্তের পাহাড়’ ইরানের! আদৌ কি মিলবে রফাসূত্র?

By Bangla News Dunia Dinesh

Published on:

উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) নতুন করে আলোচনার প্রস্তাবের মাঝেই অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিল ইরান (Iran Ceasefire Terms)। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতি বা কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি (US military bases) সরিয়ে নিতে হবে। একইসঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ ‘হরমুজ প্রণালী’র (Strait of Hormuz) পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং সেখান দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজ থেকে ফি আদায়ের অধিকারও দাবি করেছে ইরান।

এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রকাশ্যে আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেও ভেতরে ভেতরে একগুচ্ছ দাবি পেশ করেছে ইরান। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা সমস্ত আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করা। যুদ্ধের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান। পাশাপাশি হেজবোল্লার বিরুদ্ধে ইজরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ করা। এবং ইরানের ওপর থেকে সমস্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা।

মজার বিষয় হল, একদিকে যখন তেহরান অত্যন্ত কঠিন সব শর্ত দিচ্ছে, অন্যদিকে তারা কিছু বিষয়ে নমনীয় হওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছে। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরান তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কমিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। এমনকি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (IAEA) পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টিতেও তারা সবুজ সংকেত দিতে পারে বলে খবর।

প্রতিবেদনে আরও ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে যে, একটি সামগ্রিক চুক্তির বিনিময়ে ইরান হেজবোল্লা, হামাস এবং ইরাকি মিলিশিয়াদের মতো আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করতে রাজি হতে পারে। তবে এই সব কিছুই নির্ভর করছে আমেরিকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

ইরানি সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি ওয়াশিংটনকে কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘আমেরিকা আসলে নিজের সঙ্গেই নিজে আলোচনা করছে।’ তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীকে স্বীকৃতি না দিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমার কোনও সম্ভাবনা নেই।

প্রকাশ্যে কঠোর মনোভাব এবং আড়ালে শর্তাধীন নমনীয়তা—ইরানের এই দ্বিমুখী কৌশল বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের এই ‘চরম’ শর্তগুলো মেনে নিয়ে কোনও সমঝোতায় পৌঁছায় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Bangla News Dunia Dinesh

মন্তব্য করুন