Iran Israel War: ইরানে মেয়েদের স্কুলে বিমান হামলা, নিহত ১৬৫-এর বেশি; নিহতদের সবাই শিশু

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

দক্ষিণ ইরানের হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত বিমান হামলায় ১৬৫ জনেরও বেশি নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই কোমলমতি শিক্ষার্থী।  গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পুরো বিশ্ব স্তম্ভিত করে দেয়।  শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ওপর এমন নৃশংস হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মিনাবের ‘শাজারেহ তাইয়্যেবাহ’ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালেই বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে ওই এলাকা এরপরই ভয়াবহ এই হামলা চালানো হয়।  জানা গেছে, বিদ্যালয়টির পাশেই আইআরজিসি (IRGC) নৌ-ঘাঁটি লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমানবাহিনী এই হামলা চালায়।  মিসাইল বা বোমার আঘাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে যায়।  এতে ১৬৫ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৯৫ জন, যার বড় একটি অংশ শিশু।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি।  নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়ায় ধ্বংসস্তূপের ছবি শেয়ার করে একে ‘শিশুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।  এছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি সহ নিচের কথাগুলো বলেন “এগুলো হলো ১৬০-এর বেশি নিরীহ মেয়ের শিশুর কবর, যাদেরকে যুক্তরাষ্ট্র- ইসরায়েল বোমা হামলায় করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হত্যা করে। তাদের দেহ টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। এটাই মি. ট্রাম্পের প্রতিশ্রুত ‘রেসকিউ’ এর বাস্তব চিত্র। গাজা থেকে মিনাব পর্যন্ত নিরীহদের ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলাকে ‘বড় যুদ্ধ অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করে ইরানে সরকার পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন।  এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে, যদিও ইরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

উল্লেখ্য, গত শনিবার সকালে ইসরায়েলের অতর্কিত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু করে।  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার কথা নিশ্চিত করেছেন।  সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো এই ব্যাপক ও ভয়াবহ হামলায় ইরানের শতাধিক বেসামরিক ভবন ও স্থাপনা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; যার মধ্যে মিনাবের ওই দুর্ভাগ্যজনক স্কুলটিও অন্তর্ভুক্ত।  যুদ্ধের এই তীব্রতা ও বেসামরিক হতাহতের ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ ও ক্ষোভকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

 

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন