উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামা এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মাঝেই সামরিক কৌশলে বড় পরিবর্তন আনল ইরান। দেশের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক সংস্থা ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’ (SNSC)-এর নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব নিলেন দুর্ধর্ষ সামরিক ব্যক্তিত্ব মহম্মদ বাঘের জোলঘাদর (Mohammad Bagher Zolghadr)। সম্প্রতি এক হামলায় আলি লারিজানির (Ali Larijani) মৃত্যুর পর এই শূন্যস্থান পূরণে একজন কট্টরপন্থী সামরিক কমান্ডারের ওপরই ভরসা রাখলেন ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব।
রেভলিউশনারি গার্ডের কব্জায় নীতি নির্ধারণ
মহম্মদ বাঘের জোলঘাদর কেবল একজন আমলা নন, তিনি ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC)-এর প্রাক্তন শীর্ষ কমান্ডার। প্রতিরক্ষা, পরমাণু কর্মসূচি এবং বিদেশনীতির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো এখন সরাসরি তাঁর নিয়ন্ত্রণে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জোলঘাদরের নিয়োগ প্রমাণ করে যে ইরান এখন আর কেবল কূটনৈতিক পথে নয়, বরং সরাসরি সামরিক কৌশলে বিশ্বশক্তিদের মোকাবিলা করতে চাইছে।
কেন এই নিয়োগ তাৎপর্যপূর্ণ?
জোলঘাদর তাঁর কট্টর আমেরিকা-বিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত। তাঁর আগমনে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আলি লারিজানির মতো অভিজ্ঞ নেতার আকস্মিক মৃত্যু ইরানের নিরাপত্তা বলয়ে যে ফাটল ধরিয়েছিল, জোলঘাদরের ‘আয়রন ফিস্ট’ নীতি দিয়ে তা ঢাকতে চাইছে তেহরান। এছাড়াও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যখন পশ্চিমি দেশগুলো চাপ রাখছে, তখন জোলঘাদরের নিয়োগ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান নিজের অবস্থান থেকে এক চুলও নড়বে না। এই রদবদলের ফলে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা সিদ্ধান্তে রেভলিউশনারি গার্ডের প্রভাব কয়েক গুণ বেড়ে গেল, যা আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।














