উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত (Iran-US War) কি এবার থামতে চলেছে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) দেওয়া চরম সময়সীমার মধ্যেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে একটি ৪৫ দিনের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি (45-Day Ceasefire) নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, এই সাময়িক বিরতিই শেষ পর্যন্ত স্থায়ী শান্তিচুক্তির পথ প্রশস্ত করতে পারে।
সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকা, ইরান এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশর এই আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে টেক্সট বার্তার মাধ্যমে সরাসরি যোগাযোগ চলছে বলে জানা গিয়েছে। প্রস্তাবিত এই চুক্তিটি মূলত দুই পর্যায়ের। প্রথম পর্যায়ে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হবে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের স্থায়ী অবসানে দুই পক্ষ একমত হবে।
শান্তি আলোচনা চললেও সুর নরম করেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত ৮টার (ইস্টার্ন টাইম) মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে না দিলে ইরানের পরিকাঠামোয় ‘ভয়াবহ’ হামলা চালানো হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘একটি চুক্তির ভালো সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু সেটি না হলে আমি সব উড়িয়ে দেব।’ উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই মার্কিন ও ইজরায়েলি সেনাবাহিনী ইরানে বড়সড়ো বোমা হামলার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে রেখেছে।
আমেরিকার মূল দাবি হল, হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া এবং ইরানের মজুত ইউরেনিয়াম হয় লঘু করা অথবা দেশ থেকে সরিয়ে ফেলা। তবে তেহরান এই বিষয়ে কিছুটা সন্দিহান। গাজা বা লেবাননের মতো পরিস্থিতি যাতে না হয়, অর্থাৎ যুদ্ধবিরতির নামে ইজরায়েল যাতে পুনরায় আক্রমণ না করতে পারে, তার গ্যারান্টি চাইছে ইরান।
গত কয়েক সপ্তাহে মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পালটা জবাবে ইরানও কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। জেবেল আলি বন্দরে একটি ইজরায়েলি জাহাজেও আঘাত হেনেছে রেভলিউশনারি গার্ডস। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবারের সময়সীমা পার হওয়ার আগেই বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে কোনও কূটনৈতিক সমাধানের দিকে।














