IT Sector Crisis: আইটি সেক্টরে ভয়ংকর ধস! ধুয়ে গেল ৪ লক্ষ কোটি টাকা, AI আতঙ্কে কাঁপছে শেয়ার বাজার

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

IT Sector Crisis: ভারতীয় অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ বলা হয় তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি সেক্টরকে। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই সেক্টরে যে ভয়াবহ পতন দেখা যাচ্ছে, তাকে বিশেষজ্ঞরা “ব্লাড বাথ” বা রক্তক্ষরণ বলে অভিহিত করছেন। ১ জানুয়ারি থেকে মধ্য ফেব্রুয়ারি—এই সামান্য সময়ের মধ্যেই ভারতের শীর্ষস্থানীয় আইটি কোম্পানিগুলির মোট বাজার মূলধন বা মার্কেট ক্যাপ থেকে প্রায় ৪ লক্ষ কোটি টাকা বা ৪ ট্রিলিয়ন রুপি উধাও হয়ে গেছে। এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির কারণ হিসেবে উঠে আসছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতি ভয় এবং বিশ্ব বাজারের কিছু নেতিবাচক সংকেত।

কেন এই হঠাৎ পতন? নেপথ্যের কারণ

এই ধসের পেছনে প্রধানত তিনটি বড় কারণ কাজ করছে, যা ভারতের আইটি শিল্পের চিরাচরিত কাঠামোকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে:

  • এআই ফোবিয়া বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আতঙ্ক: এতদিন ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলি মূলত কোডিং, টেস্টিং এবং ব্যাক-অফিস সাপোর্টের মতো কাজের জন্য প্রচুর কর্মী নিয়োগ করত। ক্লায়েন্টদের থেকে কাজের ঘণ্টা অনুযায়ী বিল নেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে উন্নত এআই সিস্টেম এই কাজগুলি চোখের পলকে এবং অত্যন্ত কম খরচে করে ফেলছে। ফলে মানুষের প্রয়োজনীয়তা বা “ম্যানপাওয়ার”-এর চাহিদা কমছে, যা সরাসরি কোম্পানিগুলোর আয়ের মডেলে আঘাত হানছে।
  • আমেরিকার অর্থনৈতিক নীতি: ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলির আয়ের প্রায় ৫০-৬০ শতাংশই আসে আমেরিকা থেকে। কিন্তু বর্তমানে আমেরিকায় চাকরির বাজার চাঙ্গা হওয়ায় ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাচ্ছে না। বেশি সুদের হারের কারণে মার্কিন কোম্পানিগুলি খরচ কমাচ্ছে এবং নতুন প্রোজেক্ট আউটসোর্স করতে দ্বিধা করছে।
  • ব্যবসায়িক মডেলের সংকট: গত আড়াই দশক ধরে ভারতের সস্তা শ্রমের ওপর ভিত্তি করে যে “ওয়েজ আরবিট্রেজ” বা মজুরির পার্থক্যের মডেল দাঁড়িয়ে ছিল, অটোমেশনের যুগে তা অকেজো হয়ে পড়ছে। এখন ফোকাস সস্তা শ্রমের বদলে প্রোডাক্টিভিটি বা উৎপাদনশীলতার ওপর সরে গেছে।

বড় কোম্পানিগুলির শোচনীয় অবস্থা

শেয়ার বাজারের এই অস্থিরতায় টিসিএস (TCS), ইনফোসিস (Infosys) এবং উইপ্রো (Wipro)-র মতো জায়ান্ট কোম্পানিগুলি জোর ধাক্কা খেয়েছে। টিসিএস-এর মার্কেট ক্যাপ ১০ লক্ষ কোটি টাকার নিচে নেমে গেছে এবং এসবিআই (SBI) ও আইসিআইসিআই (ICICI) ব্যাঙ্কের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি টিসিএস-কে টপকে মার্কেট র‍্যাঙ্কিংয়ে উপরে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, ইনফোসিস তার সর্বকালের সর্বোচ্চ দাম থেকে প্রায় ২৫ শতাংশ নিচে লেনদেন করছে।

ভবিষ্যৎ এবং পেশাদারদের করণীয়

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ৩-৪ বছরে আইটি শিল্পের রাজস্বে ৯-১২ শতাংশ ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব শুধু শেয়ার বাজারে নয়, বরং কর্মসংস্থান, রিয়েল এস্টেট এবং সরকারের ট্যাক্স আদায়েও পড়বে। তবে এটি একেবারে শেষ নয়। টিকে থাকার জন্য ইঞ্জিনিয়ারদের এবং কোম্পানিগুলোকে দ্রুত নিজেদের আপগ্রেড করতে হবে। গতানুগতিক ডিগ্রির বদলে ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার সিকিউরিটি এবং মেশিন লার্নিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে ওঠাই এখন সময়ের দাবি।

ঘোষণা: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য প্রকাশিত। এটি কোনো প্রকার আর্থিক পরামর্শ বা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের সুপারিশ নয়। বিনিয়োগের আগে অবশ্যই একজন নথিবদ্ধ আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন