Jammu University | জিন্নাহ-র পাঠ্য নিয়ে ‘রণক্ষেত্র’ জম্মু বিশ্ববিদ্যালয়! এবিভিপি-র তীব্র বিক্ষোভ

By Bangla News Dunia Dinesh

Published on:

উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: শিক্ষা বনাম জাতীয়তাবাদ— এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে ফের উত্তাল জম্মু বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৬-২৮ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সংশোধিত পাঠ্যসূচিতে মহম্মদ আলি জিন্নাহর নাম অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। শুক্রবার এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখাল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)।

বিক্ষোভের মূলে কী?

জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০-এর অধীনে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ‘আধুনিক ভারতীয় রাজনৈতিক চিন্তা’ (Modern Indian Political Thought) মডিউলে ‘সংখ্যালঘু ও জাতি’ (Minorities and the Nation) শীর্ষক একটি পত্রে জিন্নাহ এবং স্যর সৈয়দ আহমেদ খানের জীবনী ও রাজনৈতিক দর্শন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এবিভিপি-র অভিযোগ, যারা দেশভাগের কারিগর এবং ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’-এর প্রবক্তা, তাদের ভারতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ানো গ্রহণযোগ্য নয়।

বিক্ষোভ চলাকালীন এবিভিপি কর্মীরা জিন্নাহর পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেন এবং স্লোগান তোলেন। সংগঠনের জম্মু ও কাশ্মীর সম্পাদক সান্নাক শ্রীভাতস (Sannak Shrivats) বলেন: “একাডেমিক স্বাধীনতার নামে জাতীয় আবেগকে আঘাত করা হচ্ছে। যারা দেশভাগ করেছে, তাদের সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধি হিসেবে দেখানো মেনে নেওয়া হবে না। অবিলম্বে এই অধ্যায় বাদ না দিলে আমরা রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলব।”

সাফাই দিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

বিক্ষোভের মুখে পড়েও পিছু হটতে নারাজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান বলজিৎ সিং মান (Baljit Singh Mann) স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, বরং ইউজিসি (UGC) নির্দেশিত নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রধান যুক্তিগুলি হলো:

  • প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা: নেট (NET) বা অন্যান্য সর্বভারতীয় পরীক্ষায় এই বিষয়গুলি থেকে প্রশ্ন আসে। পাঠ্যক্রম থেকে এগুলি বাদ দিলে জম্মুর ছাত্রছাত্রীরা পিছিয়ে পড়বে।
  • ভারসাম্য রক্ষা: পাঠ্যক্রমে শুধু জিন্নাহ বা ইকবাল নন, বরং বীর সাভারকর, এম এস গোলওয়ালকর, মহাত্মা গান্ধী, বি আর আম্বেদকর এবং সর্দার প্যাটেলের রাজনৈতিক দর্শনও পড়ানো হচ্ছে।
  • সমালোচনামূলক মূল্যায়ন: বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য কোনো মতাদর্শ প্রচার করা নয়, বরং পড়ুয়াদের সামনে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা যাতে তারা নিজেরাই গুণাগুণ বিচার করতে পারে।

জাতীয় প্রেক্ষাপট

বিভাগীয় প্রধানের মতে, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র এবং কলকাতার একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়েও জিন্নাহ বা সৈয়দ আহমেদ খানকে পড়ানো হয়। তিনি এও জানান যে, জিন্নাহ বা ইকবালের মতো ব্যক্তিত্বদের প্রথম জীবনের জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারা এবং পরবর্তী বিবর্তন বোঝা ইতিহাসের ছাত্রছাত্রীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

Bangla News Dunia Dinesh

মন্তব্য করুন