Joint Taxation: বাজেটে বিবাহিতদের জন্য বড় সুখবর? চালু হতে পারে ‘জয়েন্ট ট্যাক্সেশন’, বাঁচবে লাখ লাখ টাকা!

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

Joint Taxation: আগামী ২০২৬ সালের ইউনিয়ন বাজেট বা কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করার আগে সাধারণ মানুষের মনে প্রত্যাশার পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে করদাতাদের জন্য এবারের বাজেটে বড়সড় চমক থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন কি এবার বিবাহিত দম্পতিদের জন্য কর কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনবেন? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বিভিন্ন মহলে। শোনা যাচ্ছে, সরকার ‘জয়েন্ট ট্যাক্সেশন’ বা যৌথ কর ব্যবস্থার বিকল্প নিয়ে আসার চিন্তাভাবনা করছে, যা মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় স্বস্তির কারণ হতে পারে।

জয়েন্ট ট্যাক্সেশন বা যৌথ কর ব্যবস্থা কী?

সহজ কথায়, জয়েন্ট ট্যাক্সেশন হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে স্বামী এবং স্ত্রী তাদের আলাদা আলাদা আয়কর রিটার্ন জমা না দিয়ে, দুজনে মিলে একটি যৌথ রিটার্ন জমা দিতে পারেন। বর্তমানে ভারতে প্রত্যেক ব্যক্তিকে স্বতন্ত্র করদাতা হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তাদের আয়ের ওপর পৃথকভাবে কর দিতে হয়। কিন্তু এই নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে, দম্পতিরা তাদের মোট পারিবারিক আয় একত্রিত করে ট্যাক্স ফাইল করতে পারবেন। ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ ইন্ডিয়া (ICAI) অর্থমন্ত্রকের কাছে এই সুপারিশটি রেখেছে। তবে এটি বাধ্যতামূলক হবে না, দম্পতিরা চাইলে পুরনো পদ্ধতিতেও ফাইল করতে পারবেন। এর জন্য স্বামী-স্ত্রী উভয়ের প্যান কার্ড থাকা আবশ্যিক হতে পারে।

বর্তমান নিয়মে কোথায় সমস্যা?

বর্তমানে ভারতে কর ব্যবস্থা ব্যক্তি-কেন্দ্রিক। অর্থাৎ, স্বামী এবং স্ত্রী দুজনেই যদি আয় করেন, তবে তাদের আলাদা আলাদা স্ল্যাব অনুযায়ী কর দিতে হয়। সমস্যাটি প্রকট হয় সেই সব পরিবারে যেখানে মাত্র একজন উপার্জনক্ষম।

  • একক উপার্জনে চাপ: অনেক পরিবারে স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে একজন চাকরি বা ব্যবসা করেন এবং অন্যজন গৃহস্থালির দায়িত্ব সামলান। বর্তমান নিয়মে, যিনি আয় করছেন না, তার জন্য বরাদ্দ বেসিক ট্যাক্স এক্সেম্পশন বা কর ছাড়ের সুবিধাটি অব্যবহৃত থেকে যায়।
  • কর ছাড়ের সুবিধা থেকে বঞ্চনা: পৃথক ফাইলিংয়ের কারণে, উপার্জনকারী সদস্যকে একাই পুরো আয়ের ওপর কর দিতে হয়, ফলে করের বোঝা বাড়ে। অন্যদিকের অব্যবহৃত স্ল্যাবের সুবিধা তিনি নিতে পারেন না।

বিবাহিত দম্পতিরা কীভাবে লাভবান হবেন?

যদি সরকার এই ‘জয়েন্ট ট্যাক্সেশন’ ব্যবস্থা চালু করে, তবে একক উপার্জনকারী পরিবারগুলি সবথেকে বেশি লাভবান হবে। এর সম্ভাব্য সুবিধাগুলি নিচে আলোচনা করা হলো:

১. বেসিক এক্সেম্পশন লিমিট বৃদ্ধি: দুজনের আয় একত্রিত হলে করমুক্ত আয়ের সীমা বা বেসিক এক্সেম্পশন লিমিট বেড়ে যেতে পারে। ফলে মোট আয়ের ওপর কম কর দিতে হবে।
২. সাশ্রয় এবং সঞ্চয়: হোম লোন, স্বাস্থ্য বিমা এবং অন্যান্য কর ছাড়ের সুবিধাগুলি যৌথভাবে আরও ভালোভাবে ব্যবহার করা যাবে। এতে বছরে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত কর সাশ্রয় হতে পারে।
৩. উচ্চ আয়ের সারচার্জে স্বস্তি: উচ্চ আয়ের ক্ষেত্রে সারচার্জের সীমা বাড়ানো হতে পারে, যা সরাসরি করের বোঝা কমাবে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ব্যবস্থা

ভারতবর্ষে এই ধারণা নতুন হলেও, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে এটি দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত। আমেরিকা (USA), জার্মানি, স্পেন এবং পর্তুগালের মতো দেশগুলোতে বিবাহিত দম্পতিদের ‘জয়েন্ট ট্যাক্স রিটার্ন’ ফাইল করার অনুমতি দেওয়া হয়। সেখানে পরিবারকে একটি ‘অর্থনৈতিক ইউনিট’ বা একক হিসেবে গণ্য করা হয়। ভারত যদি এই পথে হাঁটে, তবে তা দেশের কর ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক এবং পরিবার-বান্ধব করে তুলবে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

ডিসক্লেইমার: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি কোনো আর্থিক পরামর্শ নয়। কর সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন পেশাদার কর উপদেষ্টার (Tax Consultant) পরামর্শ নিন।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন