শিলিগুড়ি: উত্তর সিকিমের চুংথাং-লাচেন রুটে তারাম চুর কাছে সড়কপথ ধসে গিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল যোগাযোগ ব্যবস্থা (Lachen Rescue Operation)। ফলে গত কয়েকদিন ধরে লাচেনে আটকে রয়েছেন বহু পর্যটক। অবশেষে তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বড়সড় সাফল্য পেল সিকিম প্রশাসন। স্থানীয় ‘লাচেন জুমসা’ (Lachen Dzomsa) এবং পর্যটন দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে তারাম চু-তে একটি অস্থায়ী ফুটব্রিজ তৈরি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে আটকে পড়া পর্যটকদের দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার সিকিম পর্যটন দপ্তরের চেয়ারম্যান সোনম নরগে লাচুংপা নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মঙ্গনের জেলাশাসক (DC), পুলিশ সুপার (SP), চুংথাং-এর মহকুমা শাসক (SDM) এবং অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকরা। এই প্রতিনিধি দলটি ডংকিয়া লা পাস (Dongkya La Pass) এলাকাটিও ঘুরে দেখেন। লাচেন থেকে বিকল্প পথে পর্যটকদের সরিয়ে আনা যায় কি না, সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেন তাঁরা। তবে জানানো হয়েছে, পাহাড়ি রাস্তায় জমে থাকা পুরু বরফ সরাতে কিছুটা সময় লাগবে এবং আবহাওয়াও বর্তমানে অত্যন্ত অনিশ্চিত।
প্রশাসন সূত্রের খবর, যদি আবহাওয়া অনুকূল থাকে, তবে আগামীকাল অর্থাৎ ৮ এপ্রিল থেকেই আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারকাজ পুরোদমে শুরু হবে। ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের ধস কবলিত এলাকার ওপারে থাকা যানবাহনে পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্যদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রশাসন একাধিক নির্দেশিকা জারি করেছে। তারাম চু থেকে পরবর্তী গন্তব্যের জন্য সমস্ত ট্যুর অপারেটর ও হোটেল মালিকদের পর্যাপ্ত পরিবহনের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। পর্যটকদের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তাঁরা আতঙ্কিত না হন।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টি ও তুষারপাতের জেরে উত্তর সিকিমের একাধিক জায়গায় ধস নামে। তারাম চুর কাছে রাস্তা ধসে যাওয়ার পর থেকেই লাচেন কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পর্যটকদের সুবিধার্থে স্থানীয় জুমসা ও গ্রামবাসীরা যেভাবে প্রশাসনের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ফুটব্রিজ তৈরি করেছে, তা প্রশংসা কুড়িয়েছে। সেনাবাহিনীর সাহায্যও প্রয়োজনমতো নেওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। পর্যটন প্রেমীদের আপাতত উত্তর সিকিমের উচ্চতর এলাকাগুলোতে যাওয়ার আগে আবহাওয়া এবং রাস্তার পরিস্থিতি যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।














