সামনেই ভোট। আর তার আগেই এক বড় পদক্ষেপ নিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গেছে, তিনি প্রায় ২৫টি সরকারি কমিটি এবং বোর্ডের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত? তিনি কি মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়লেন? একনজরে দেখে নিন আসল ঘটনা।
আসলে বিষয়টি যতটা রাজনৈতিক, তার চেয়েও ঢের বেশি আইনি। সামনেই রাজ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিধানসভা নির্বাচন। নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের লড়াইয়ে নামার আগে কোনো প্রার্থী লাভজনক পদে (Office of Profit) থাকতে পারেন না। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় যাতে কোনো আইনি সমস্যার সম্মুখীন না হতে হয়, সেই কারণেই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক কথায়, নির্বাচনের আগে নিজেকে সম্পূর্ণ ‘সাফসুথরো’ রাখতেই এই কৌশল বেছে নিয়েছেন।
নবান্ন সূত্রে খবর, অন্তত ২৫টি সরকারি উন্নয়ন পর্ষদ ও তদারকি কমিটির শীর্ষ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। মূলত স্বাস্থ্য ও শিল্প দপ্তরের অধীনে থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমিটির চেয়ারম্যান এবং সদস্য পদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ থেকে পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর (পুর্ব ও পশ্চিম), ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের বিশেষ উন্নয়ন পর্ষদগুলোর মাথায় আর থাকছেন না তিনি। বাদ যায়নি তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরও সেখানেও বিভিন্ন সরকারি প্রচার ও সাংস্কৃতিক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন এতদিন সেই পদ থেকেও ইস্তফা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।
সাধারণ মানুষের বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেননি। তিনি কেবল অতিরিক্ত প্রশাসনিক পদগুলো থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন যেহেতু বিধানসভা ভোটে মূখ্যমন্ত্রী মমতা প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। সে কারণে মনোনোয়ন জমা দেওয়ার আগে কোনও লাভজনক পদে থাকা যায় না বলে এ ইস্তফা।














