Married Daughter Pension: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দপ্তরের পেনশন শাখা থেকে রাজ্য সরকারি কর্মী এবং পেনশনারদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনকল্যাণমুখী নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্ভিসেস (ডেথ-কাম-রিটায়ারমেন্ট বেনিফিট) রুলস ১৯৭১’-এ বড়সড় পরিবর্তন আনা হলো। সংবিধানের ৩০৯ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা বলে এই সংশোধনী কার্যকর করা হয়েছে।
গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রে ‘পরিবার’-এর নতুন সংজ্ঞা
এই সংশোধনীর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ডেথ গ্র্যাচুইটি বা মৃত্যুজনিত উপদানের ক্ষেত্রে ‘ফ্যামিলি’ বা পরিবারের সংজ্ঞার পরিধি বৃদ্ধি করা। এতদিন অনেক ক্ষেত্রেই বিবাহিতা কন্যারা পরিবারের প্রত্যক্ষ সদস্য হিসেবে এই সুবিধার আওতার বাইরে থাকতেন। কিন্তু নতুন বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এখন থেকে ‘বিবাহিতা কন্যা’ (Married Daughter)-ও সরকারি কর্মীর পরিবারের বৈধ সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন।
নয়া নিয়ম অনুযায়ী ডেথ গ্র্যাচুইটির জন্য পরিবারের সদস্য হিসেবে যাঁদের ধরা হবে, তাঁরা হলেন:
- স্বামী বা স্ত্রী: চাকুরিজীবীর লিঙ্গভেদে।
- সন্তান: পুত্র (সৎ পুত্র সহ) এবং কন্যা। কন্যাদের ক্ষেত্রে অবিবাহিতা, বিধবা, বিবাহবিচ্ছিন্না এবং বিবাহিতা—সবাই এর অন্তর্ভুক্ত। সৎ কন্যারাও এই সুবিধা পাবেন।
- বাবা ও মা: পিতা-মাতা উভয়ই।
- ভাই-বোন: ১৮ বছরের কম বয়সী ভাই এবং অবিবাহিতা বা বিধবা বোন।
সার্ভিস বুকে নাম সংরক্ষণের কড়া নির্দেশ
প্রশাসনিক স্তরে একটি দীর্ঘদিনের প্রথা ছিল যে, সরকারি কর্মীর মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলেই তাকে আর ‘নির্ভরশীল’ বা পরিবারের অংশ হিসেবে ধরা হতো না এবং সার্ভিস বুক থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হতো। অর্থ দপ্তরের নতুন নির্দেশিকা এই প্রথা বাতিল করেছে। এখন থেকে মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরেও সার্ভিস বুকে তার নাম আত্মীয় হিসেবে নথিবদ্ধ রাখতে হবে। অর্থাৎ, বৈবাহিক অবস্থা পরিবর্তনের কারণে কোনোমতেই মেয়ের নাম সরকারি নথি থেকে মুছে ফেলা যাবে না।
অমীমাংসিত মামলার ভবিষ্যৎ
অর্থ দপ্তরের এই বিজ্ঞপ্তিটি ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসনিক দপ্তরগুলিকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, এই নিয়ম চালু হওয়ার আগে যদি বিবাহিতা বা বিবাহবিচ্ছিন্না কন্যা সংক্রান্ত কোনো গ্র্যাচুইটির আবেদন বা কেস ঝুলে থাকে (Undisposed), তবে সেগুলিকে অবিলম্বে এই নতুন সংশোধিত নিয়মের ভিত্তিতে বিচার করে নিষ্পত্তি করতে হবে। এর ফলে বহু আটকে থাকা ফাইলে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।














