Mobile Recharge Hike: ফের বড় ধাক্কা মধ্যবিত্তের পকেটে! জুন মাসেই মোবাইল রিচার্জের খরচ ১৬-২০% বাড়ার সম্ভাবনা

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

Mobile Recharge Hike: বর্তমান ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সকালের অ্যালার্ম থেকে শুরু করে রাতে ঘুমানোর আগে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল—সবকিছুতেই মুঠোফোন অপরিহার্য। তবে এবার সেই ফোন চালু রাখা সাধারণ মানুষের জন্য আরও কঠিন হতে চলেছে। জিও (Jio), এয়ারটেল (Airtel) এবং ভোডাফোন আইডিয়া (Vi)-র মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিকম সংস্থাগুলি ফের তাদের ট্যারিফ প্ল্যানের দাম বাড়ানোর পথে হাঁটতে চলেছে। এর ফলে সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে মধ্যবিত্তের মাসিক বাজেটে।

রিচার্জের দাম কতটা বাড়তে পারে?

সদ্য প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাস থেকেই মোবাইল রিচার্জের খরচে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে। টেলিকম কোম্পানিগুলো তাদের প্রিপেইড এবং পোস্টপেইড প্ল্যানগুলির দাম ১৬ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হলে সাধারণ গ্রাহকদের পকেটে যে বড় টান পড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

রিচার্জের এই সম্ভাব্য বৃদ্ধির ফলে খরচের অংকটা ঠিক কীভাবে বদলাতে পারে, তার একটি ধারণা নিচে দেওয়া হলো:

বর্তমান প্ল্যান মূল্য (আনুমানিক) বৃদ্ধির হার সম্ভাব্য নতুন মূল্য
২০০ টাকা ২০% ২৪০ টাকা
৫০০ টাকা ২০% ৬০০ টাকা

অর্থাৎ, যে প্ল্যানটির জন্য আপনি এখন ২০০ টাকা খরচ করেন, তার জন্য আপনাকে অতিরিক্ত প্রায় ৪০ টাকা গুনতে হতে পারে। একইভাবে ৫০০ টাকার প্ল্যানে খরচ বাড়তে পারে ১০০ টাকা পর্যন্ত।

গত কয়েক বছরে রিচার্জের খরচের গ্রাফ

মোবাইল পরিষেবার খরচ বৃদ্ধি নতুন কোনো ঘটনা নয়। গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যায় যে, টেলিকম অপারেটররা ধাপে ধাপে তাদের ট্যারিফ বাড়িয়েছে। গত সাত বছরে মোট তিনবার বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে:

  • ২০১৯ সাল: এই সময়ে রিচার্জের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছিল।
  • ২০২১ সাল: গ্রাহকদের ওপর ২০ শতাংশ বাড়তি খরচের বোঝা চাপানো হয়েছিল।
  • ২০২৪ সাল: সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বছরেও রিচার্জের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বারবার এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের আয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, বিশেষত যারা সীমিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল।

জনজীবনে এর প্রভাব ও গ্রাহকদের ভোগান্তি

আজকের দিনে ইন্টারনেট কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবার চাবিকাঠি। ইউপিআই (UPI) পেমেন্ট, অনলাইন ব্যাঙ্কিং, যাতায়াতের জন্য গুগল ম্যাপ বা ক্যাব বুকিং—সবকিছুর জন্যই ডেটা প্যাক বা অ্যাক্টিভ সিম প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে রিচার্জের দাম বাড়লে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার সুফল ভোগ করা অনেক নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

এর পাশাপাশি গ্রাহকদের আরও কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে:

  • সস্তা প্ল্যান উধাও: কোম্পানিগুলো তাদের তালিকা থেকে কম দামের বা সস্তা প্ল্যানগুলো সরিয়ে ফেলছে। ফলে গ্রাহকরা বাধ্য হয়ে বেশি দামের প্ল্যান রিচার্জ করছেন।
  • সিম নিষ্ক্রিয় হওয়ার ভয়: নিয়মিত রিচার্জ না করলে ইনকামিং ও আউটগোইং পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, এমনকি সিম কার্ডটি পুরোপুরি অকেজো হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকছে।

কী চাইছেন সাধারণ গ্রাহকরা?

ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির জেরে সাধারণ মানুষ এখন সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন। গ্রাহকদের একাংশের মতে, সকলের জন্য আনলিমিটেড ডেটা বা এসএমএস প্যাকের প্রয়োজন হয় না। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ বা যারা ফিচার ফোন (কী-প্যাড ফোন) ব্যবহার করেন, তাদের জন্য কেবল কথা বলার সুবিধাযুক্ত স্বল্পমূল্যের প্ল্যান রাখা উচিত। অপ্রয়োজনীয় পরিষেবা জোর করে চাপিয়ে দিয়ে বেশি টাকা নেওয়ার এই প্রবণতা বন্ধ করার দাবি জোরালো হচ্ছে।

জুন মাসে সত্যিই এই নতুন দাম কার্যকর হয় কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তবে টেলিকম সংস্থাগুলোর এই সিদ্ধান্তে যে সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে, তা নিশ্চিত।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন