Oasis Scholarship Update: পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনগ্রসর শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের সহায়তা করার জন্য রাজ্য সরকার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প পরিচালনা করে। এর মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় হলো ‘ওয়েসিস স্কলারশিপ’ (OASIS Scholarship)। রাজ্যের তপশিলি জাতি (SC), তপশিলি উপজাতি (ST) এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর (OBC) পড়ুয়াদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য এই স্কলারশিপের মাধ্যমে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। সম্প্রতি এই স্কলারশিপ পোর্টালে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আপডেট এসেছে, যা বিশেষ করে ST ক্যাটাগরির শিক্ষার্থীদের জন্য জানা বাধ্যতামূলক।
ন্যাশনাল স্কলারশিপ পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক
আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের নির্দেশিকা মেনে ওয়েসিস পোর্টালে একটি বিশেষ পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে ST (Scheduled Tribe) সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপের জন্য আবেদন করার পদ্ধতি কিছুটা পরিবর্তিত হচ্ছে।
- OTR বাধ্যতামূলক: প্রি-ম্যাট্রিক এবং পোস্ট-ম্যাট্রিক—উভয় স্তরের ST পড়ুয়াদের ওয়েসিস পোর্টালে আবেদন করার আগে ন্যাশনাল স্কলারশিপ পোর্টালে (NSP) গিয়ে ‘ওয়ান টাইম রেজিস্ট্রেশন’ বা OTR প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
- পরবর্তী ধাপ: NSP পোর্টালে সফলভাবে রেজিস্ট্রেশন করার পর একটি নির্দিষ্ট OTR নম্বর বা আইডি তৈরি হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে ওয়েসিস পোর্টালে মূল আবেদন করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ, NSP-তে নাম নথিভুক্ত না করলে এবার থেকে আর ওয়েসিসে আবেদন করা যাবে না।
তপশিলি জাতি (SC) পড়ুয়াদের জন্য আর্থিক সহায়তা
শুধুমাত্র নিয়ম পরিবর্তনই নয়, তপশিলি জাতি বা SC ক্যাটাগরির শিক্ষার্থীদের জন্যও এই স্কলারশিপের গুরুত্ব অপরিসীম। আর্থিক অনটনের কারণে যাতে কোনো SC পড়ুয়ার শিক্ষাজীবন মাঝপথে থেমে না যায়, সেই লক্ষ্যেই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ:
স্কুল পর্যায় থেকে শুরু করে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের পড়ুয়াদের তাদের কোর্সের ধরন অনুযায়ী বার্ষিক ২,৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৩,৫০০ টাকা পর্যন্ত বৃত্তি প্রদান করা হয়। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো উচ্চশিক্ষায় তপশিলি জাতির শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার বা Gross Enrolment Ratio (GER) বৃদ্ধি করা।
প্রি-ম্যাট্রিক ও পোস্ট-ম্যাট্রিক স্কলারশিপের বিবরণ
SC শিক্ষার্থীদের জন্য এই স্কলারশিপটি মূলত দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত:
১. প্রি-ম্যাট্রিক স্কলারশিপ (Pre-Matric): এটি মাধ্যমিক স্তরের আগের পড়ুয়াদের জন্য।
- কম্পোনেন্ট ১: এটি নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা পরিবারের সন্তানদের জন্য।
- কম্পোনেন্ট ২: যারা অস্বাস্থ্যকর বা ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় (যেমন সাফাইকর্মী ইত্যাদি) নিযুক্ত অভিভাবকদের সন্তান, তাদের জন্য এই বিভাগটি। এক্ষেত্রে পরিবারের আয়ের কোনো ঊর্ধ্বসীমা বা জাতি-ধর্মের কোনো বাধা নেই।
২. পোস্ট-ম্যাট্রিক স্কলারশিপ (Post-Matric): মাধ্যমিক পাস করার পর একাদশ শ্রেণী (Class XI) থেকে শুরু করে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্য কোনো স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠরত SC ছাত্রছাত্রীরা এই স্কলারশিপের সুবিধা পান।
শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তারা যেন শেষ তারিখের অপেক্ষা না করে দ্রুত প্রয়োজনীয় নথিপত্র সহকারে (বিশেষ করে ST পড়ুয়ারা NSP পোর্টালে OTR সেরে) আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু করেন।














