দীর্ঘদিনের সীমান্ত সংঘাত ও সাম্প্রতিক বিমান হামলার আবহে পবিত্র রমজান মাসের শেষে ‘সাময়িক যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণা করল পাকিস্তান ও আফগানিস্তান (Pakistan Afghanistan Conflict)। বুধবার দুই দেশের পক্ষ থেকেই জানানো হয়েছে, ইদ-উল-ফিতর উপলক্ষে আগামী পাঁচ দিন সীমান্ত শান্ত রাখতে সম্মত হয়েছে দুই পক্ষই। তবে এই শান্তির আবহ তৈরির মাঝেই উত্তর ওয়াজিরিস্তানের গুলাম খান সীমান্ত পারের হামলায় অন্তত ৮ জন পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, সৌদি আরব, কাতার এবং তুরস্কের অনুরোধে কাবুল তাদের ‘প্রতিরক্ষামূলক অভিযান’ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে রাজি হয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (X) লিখেছেন, “ভ্রাতৃপ্রতিম ইসলামিক দেশগুলোর অনুরোধে বৃহস্পতিবার থেকে সোমবার মাঝরাত পর্যন্ত এই বিরতি কার্যকর থাকবে। পাকিস্তান এই পদক্ষেপ নিয়েছে সদিচ্ছা এবং ইসলামিক রীতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে।”
যুদ্ধবিরতির কথা বললেও পাকিস্তান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। আতাউল্লাহ তারার স্পষ্ট জানিয়েছেন, “যদি কোনো সীমান্ত পারের আক্রমণ, ড্রোন হামলা বা পাকিস্তানের ভেতরে কোনো জঙ্গি তৎপরতা ঘটে, তবে পাকিস্তান দ্বিগুণ শক্তিতে পাল্টা আঘাত হানবে।”
শান্তির এই ঘোষণার মধ্যেই সিএনএন-নিউজ১৮ সূত্রে খবর, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের উত্তর ওয়াজিরিস্তানের গুলাম খান সীমান্তে একটি সামরিক চেকপোস্টে আফগানিস্তান থেকে ব্যাপক গুলিবর্ষণ ও হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় অন্তত ৮ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে ভারী গুলিবর্ষণ চলছে এবং পাকিস্তানি সেনারাও পাল্টা জবাব দিচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-সহ একাধিক জঙ্গি গোষ্ঠী আফগান মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। কাবুল এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করলেও, সম্প্রতি পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভেতরে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে। এমনকি কাবুলের আকাশেও নিয়মিত পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের আনাগোনা লক্ষ্য করা গিয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি।
উত্তেজনার এই আবহে ঘোষিত এই যুদ্ধবিরতি পবিত্র ইদ উপলক্ষে সীমান্তবাসীকে কতটা স্বস্তি দেয়, নাকি সংঘর্ষের আগুনে তা ছাই হয়ে যায়—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।














