Personal Loan: বর্তমানে আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা প্রথাগত ৯টা-৫টার চাকরি করেন না, বরং ফ্রিল্যান্সিং বা নিজস্ব ছোট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। আবার অনেকের আয়ের উৎস থাকলেও নির্দিষ্ট কোনো ‘স্যালারি স্লিপ’ বা বেতনের রসিদ থাকে না। একসময় ব্যাঙ্ক থেকে পার্সোনাল লোন বা ব্যক্তিগত ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে স্যালারি স্লিপ ছিল অন্যতম প্রধান শর্ত। এই কাগজটি না থাকলে লোন রিজেক্ট হওয়া ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। কিন্তু সুখবর হলো, ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের ফলে এখন আর স্যালারি স্লিপ একমাত্র ভরসা নয়। আপনার যদি নিয়মিত আয় থাকে এবং নির্দিষ্ট কিছু নথিপত্র ঠিক থাকে, তবে খুব সহজেই আপনি লোনের জন্য আবেদন করতে পারেন।
বেসরকারি ব্যাঙ্ক এবং নন-ব্যাঙ্কিং ফিন্যান্সিয়াল কোম্পানিগুলি (NBFC) এখন গ্রাহকের আয়ের ধরণ বুঝে ঋণের অনুমোদন দিচ্ছে। স্যালারি স্লিপ না থাকলেও, আপনার আর্থিক স্বচ্ছলতা প্রমাণের জন্য বিকল্প কিছু নথিপত্র জমা দিলেই কেল্লাফতে।
স্যালারি স্লিপের বিকল্প হিসেবে কোন কোন নথি গ্রহণযোগ্য?
ঋণদাতার মূল উদ্দেশ্য হলো আপনি ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম কি না তা যাচাই করা। তাই বেতনের কাগজ না থাকলে নিচের নথিগুলি আপনার আয়ের প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে:
| নথিপত্র (Documents) | কেন প্রয়োজন? |
|---|---|
| ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট (গত ৬ মাসের) | আপনার অ্যাকাউন্টে নিয়মিত টাকা ঢোকে কি না এবং ক্যাশ ফ্লো কেমন তা দেখার জন্য। |
| আয়কর রিটার্ন (ITR) | গত ২ বছরের ITR ফাইল আপনার বার্ষিক আয়ের সবথেকে বড় প্রমাণ। |
| ফর্ম ১৬ বা এমপ্লয়মেন্ট লেটার | যদি কোনো সংস্থায় কাজ করেন কিন্তু স্লিপ না পান, তবে এই নথি কাজে আসবে। |
| জিএসটি রিটার্ন (GST Returns) | ব্যবসায়ী বা ফ্রিল্যান্সারদের ক্ষেত্রে ব্যবসার অস্তিত্ব ও আয়ের প্রমাণ হিসেবে এটি অত্যন্ত জরুরি। |
| অন্যান্য আয়ের প্রমাণ | বাড়ি ভাড়া, কমিশন বা বিনিয়োগ থেকে আসা আয়ের নথিও জমা দেওয়া যেতে পারে। |
লোন পেতে ক্রেডিট প্রোফাইল মজবুত করা জরুরি
যখন আপনার হাতে স্যালারি স্লিপ থাকে না, তখন ব্যাঙ্ক আপনার ‘ক্রেডিট ওর্দিনেস’ বা ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করতে আপনার পুরনো আর্থিক ইতিহাসের ওপর বেশি জোর দেয়। তাই লোন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে নিচের বিষয়গুলোতে নজর দিন:
- ক্রেডিট স্কোর বা CIBIL: আপনার সিবিল স্কোর যেন অবশ্যই ৭৫০ বা তার বেশি হয়। এটি আপনার আর্থিক আস্থার প্রতীক।
- ঋণ ও আয়ের অনুপাত: আপনার আয়ের তুলনায় বর্তমান ঋণের বোঝা যেন খুব বেশি না হয়। ডেট-টু-ইনকাম রেশিও কম থাকলে ব্যাঙ্ক ভরসা পায়।
- কাজের স্থায়িত্ব: আপনি যে পেশায় বা ব্যবসায় আছেন, সেখানে অন্তত কয়েক বছরের স্থিতিশীলতা বা স্টেবিলিটি দেখানো প্রয়োজন।
- সহ-আবেদনকারী বা Co-applicant: যদি আপনার ক্রেডিট স্কোর কিছুটা কম হয়, তবে পরিবারের এমন কাউকে সহ-আবেদনকারী হিসেবে যুক্ত করুন যার স্কোর ভালো। এতে লোন পাওয়ার সুযোগ বাড়ে।
কোথা থেকে পাবেন এই লোন?
বর্তমানে প্রচুর প্রাইভেট ব্যাঙ্ক, ডিজিটাল লেন্ডিং প্ল্যাটফর্ম এবং এনবিএফসি (NBFC) এই ধরণের ঋণ দিয়ে থাকে। তারা মূলত দেখে আপনার অ্যাকাউন্টে নিয়মিত লেনদেন হচ্ছে কি না এবং অতীতে কোনো ইএমআই (EMI) বাউন্স করেছে কি না। তবে আবেদন করার আগে সুদের হার এবং প্রসেসিং ফি অবশ্যই যাচাই করে নেবেন।
কিছু ঝুঁকি যা মনে রাখা দরকার
পার্সোনাল লোন পাওয়া সহজ হলেও এর কিছু নেতিবাচক দিক রয়েছে যা অবহেলা করা উচিত নয়:
- সাধারণত স্যালারি স্লিপ ছাড়া দেওয়া লোনের ক্ষেত্রে সুদের হার বা ইন্টারেস্ট রেট কিছুটা বেশি হতে পারে।
- একটি ইএমআই মিস করলেই আপনার সিবিল স্কোরে বড়সড় পতন হতে পারে।
- প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা লোন হিসেবে নিলে ঋণের ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
- সময়ের আগে লোন শোধ করতে চাইলে বা প্রি-পেমেন্ট করতে চাইলে অনেক সময় অতিরিক্ত চার্জ দিতে হতে পারে।
দাবিত্যাগ: এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য। ঋণ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়মাবলী ভালো করে পড়ে নিন এবং প্রয়োজনে আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।














