PF Wage Limit: চাকরিজীবীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর। শীঘ্রই এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন বা EPFO-র নিয়মে বড়সড় রদবদল হতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকার প্রভিডেন্ট ফান্ডের আওতায় বেতন সীমা বা ‘ওয়েজ সিলিং’ বাড়ানোর বিষয়ে সক্রিয়ভাবে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। ২০১৪ সালের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই সীমায় কোনো পরিবর্তন আসেনি, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা ছিল।
কী পরিবর্তন আসতে চলেছে?
বর্তমানে, EPFO-র নিয়ম অনুযায়ী প্রভিডেন্ট ফান্ডে বাধ্যতামূলক অবদানের জন্য সর্বোচ্চ বেতনের সীমা বা ‘Wage Ceiling’ হলো ১৫,০০০ টাকা। এই সীমাটি শেষবার নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, সরকার এই সীমা বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা থেকে ৩০,০০০ টাকা করার পরিকল্পনা করছে। অর্থাৎ, এতদিন যাঁরা এই বেতন সীমার বাইরে থাকার কারণে পিএফ-এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন, তাঁরাও এবার এই সুরক্ষা বলয়ের আওতায় আসতে পারেন।
বেতন সীমা বৃদ্ধির সম্ভাব্য রূপরেখা নিচে দেওয়া হলো:
| বিবরণ | বর্তমান অবস্থা | প্রস্তাবিত পরিবর্তন |
|---|---|---|
| বেতন সীমা (Basic + DA) | ১৫,০০০ টাকা | ২৫,০০০ – ৩০,০০০ টাকা |
| সর্বশেষ সংশোধন | ২০১৪ সাল | আসন্ন (সম্ভাব্য) |
কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে?
মূলত তিনটি প্রধান কারণকে সামনে রেখে এই পরিবর্তনের পথে হাঁটতে পারে সরকার:
১. মুদ্রাস্ফীতি: গত এক দশকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এবং জীবনযাত্রার খরচ বহুগুণ বেড়েছে। সেই তুলনায় পিএফ-এর বর্তমান সীমাটি বাস্তবসম্মত নয়।
২. সামাজিক নিরাপত্তা: আরও বেশি সংখ্যক কর্মচারীকে সামাজিক সুরক্ষা বা সোশ্যাল সিকিউরিটির আওতায় নিয়ে আসা সরকারের লক্ষ্য।
৩. বেতন কাঠামো: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি সংস্থায় বেতন কাঠামোতেও আমূল পরিবর্তন এসেছে, যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা জরুরি।
সুবিধা ও অসুবিধা: আপনার পকেটে কেমন প্রভাব পড়বে?
এই সিদ্ধান্তের ফলে কর্মচারীদের ওপর দ্বিমুখী প্রভাব পড়তে পারে। এটি ভবিষ্যতের জন্য লাভজনক হলেও বর্তমানের জন্য কিছুটা চাপের কারণ হতে পারে।
ভবিষ্যতের সঞ্চয় বৃদ্ধি:
বেতন সীমা বাড়লে আপনার পিএফ অ্যাকাউন্টে জমার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। যেহেতু পিএফ-এর সুদ সাধারণত কর-মুক্ত এবং চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়ে, তাই দীর্ঘমেয়াদে একটি বড় অঙ্কের অবসরকালীন তহবিল বা রিটায়ারমেন্ট করপাস তৈরি হবে। পাশাপাশি, পিএফ অবদানের ওপর ভিত্তি করেই পেনশন গণনা করা হয়। তাই জমার পরিমাণ বাড়লে অবসরের পর প্রাপ্য পেনশনের অঙ্কও বৃদ্ধি পাবে।
হাতে পাওয়া বেতনে কোপ:
মুদ্রার উল্টো পিঠ হলো ‘টেক হোম স্যালারি’ বা হাতে পাওয়া বেতন। পিএফ-এর নিয়ম অনুযায়ী, মূল বেতন ও মহার্ঘ ভাতার ১২ শতাংশ কর্মচারীর বেতন থেকে কেটে জমা করা হয়। যদি বেতন সীমা ১৫,০০০ থেকে বেড়ে ৩০,০০০ টাকা হয়, তবে ১২ শতাংশ কাটার পরিমাণও দ্বিগুণ হয়ে যাবে। এর ফলে মাস শেষে হাতে পাওয়া নগদ টাকার পরিমাণ কমে যেতে পারে। বিশেষ করে তরুণ কর্মচারী বা যাদের সংসারে মাসিক খরচ বেশি, তাদের জন্য এটি সাময়িক আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
একইভাবে, কোম্পানিগুলোকেও কর্মচারীদের হয়ে সমপরিমাণ টাকা জমা দিতে হবে, যা তাদের খরচের বোঝা বাড়াবে। এর ফলে নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলি কিছুটা রক্ষণশীল হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। তবে সামগ্রিকভাবে, অবসরের পরবর্তী জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে।














