উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আম আদমি পার্টি (AAP) এবং এক সময়ের দলের ‘পোস্টার বয়’ রাঘব চাড্ডার (Raghav Chadha) মধ্যবর্তী ফাটল এবার চূড়ান্ত যুদ্ধে রূপ নিল। রাজ্যসভায় দলের ডেপুটি লিডার (Deputy leader) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মাথায় একটি বিস্ফোরক ভিডিওবার্তা প্রকাশ করলেন রাঘব। বলিউডি কায়দায় হুংকার ছেড়ে তিনি সাফ বললেন, ‘ঘায়েল হুঁ, ইসিলিয়ে ঘাতক হুঁ’ (আহত হয়েছি, তাই এখন আমি আরও বিপজ্জনক)। মূলত জনপ্রিয় স্পাই-থ্রিলার ‘ধুরন্ধর’-এর (Dhurandhar) এই সংলাপ ব্যবহার করেই নিজের দলের নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে রণংদেহি মেজাজ স্পষ্ট করে দিলেন তিনি।
শুক্রবারই আপ-এর পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, রাঘব চাড্ডা এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi) বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন। এমনকি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বদলে তিনি সংসদে ‘শিঙাড়া’র মতো তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সময় নষ্ট করছেন বলেও খোঁচা দেয় দল। শনিবার সেই প্রচারের বিরুদ্ধে মুখ খুলে রাঘব দাবি করেন, এটি কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিতভাবে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, তিনি সংসদে হট্টগোল করতে নয় বরং ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে যান। দিল্লির দূষণ থেকে শুরু করে পঞ্জাবের শিক্ষাব্যবস্থা ও রেলযাত্রীদের সমস্যার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তিনি নিয়মিত সংসদে তুলে ধরেছেন।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে সই না করার অভিযোগও রাঘবের বিরুদ্ধে তুলেছিল আপ। সেই প্রসঙ্গে রাঘব পালটা যুক্তি দিয়ে ভিডিওবার্তায় বলেন, ‘দলের ১০ জন রাজ্যসভা সাংসদের মধ্যে অন্তত ৬ থেকে ৭ জন ওই আবেদনে সই করেননি। এমতাবস্থায় শুধুমাত্র আমাকেই কেন বারবার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে?’। বিরোধীদের ওয়াকআউটে শামিল না হওয়ার অভিযোগকে ‘ডাহা মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি চ্যালেঞ্জ জানান যে, সংসদের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করলেই তাঁর দাবির সত্যতা মিলবে।
मैं बोलना नहीं चाहता था, मगर चुप रहता तो बार-बार दोहराया गया झूठ भी सच लगने लगता।
Three Allegations. Zero Truth.
My Response: pic.twitter.com/tPdjp04TLt
— Raghav Chadha (@raghav_chadha) April 4, 2026
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আবগারি নীতি মামলায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং মনীশ সিসোদিয়া নিম্ন আদালত থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও রাঘব চাড্ডার রহস্যময় নীরবতা দলের অন্দরে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। এরই ফলস্বরূপ গত বৃহস্পতিবার তাঁকে সরিয়ে অশোক মিত্তালকে ডেপুটি লিডার করা হয়। রাঘবের এই সাম্প্রতিক ‘ধুরন্ধর’ মেজাজের বার্তা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, আম আদমি পার্টির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এখন খাদের কিনারায়। এই রাজনৈতিক লড়াই আগামীদিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।












