উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সারদাকাণ্ডে আপাতত স্বস্তি রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের (Rajeev Kumar Case)। এই মামলায় রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে করা সিবিআইয়ের আবেদন বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। তাঁর আগাম জামিন বহাল থাকছে। তবে রাজীবের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা বাতিল হয়নি। আট সপ্তাহ পর এই মামলা আবার শুনবে শীর্ষ আদালত।
বিষয়টি নিয়ে রাজীব কুমারের আইনজীবী জানান, যারা এই মামলা করেছিলেন তারা পরিষ্কার জানেন, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশে করা হয়েছিল। এই মামলায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নাম যে আসা উচিত নয় সে বিষয়টিও তিনি আদালতে স্পষ্ট করেছেন। প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর নাম জড়ানো নিয়ে। ২০১৯ সালে রাজীব কুমারকে এই মামলায় আগাম জামিন দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে সিবিআই। গত শুনানিতে শীর্ষ আদালতে প্রশ্ন তুলেছিল, ৬ বছর পর কেন এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে? এদিনের শুনানিতে সিবিআইয়ের আবেদন আপাতত বাতিল করা হল।
প্রসঙ্গত, সারদা চিটফান্ড মামলায় প্রথম তদন্ত শুরু করেছিল রাজ্য সরকারের গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। সেই সিটের অন্যতম সদস্য ছিলেন বিধাননগরের তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার। ২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার তদন্তভার সিবিআইকে দেয়। সিবিআই অভিযোগ করে, রাজীব তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং নথি ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করেছেন। তবে সব অভিযোগ নস্যাৎ করেন রাজীব। আদালতে জানান, সিবিআই তদন্তে তিনি পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন।
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট রাজীবকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেয়। পরে তা আবার প্রত্যাহার করা হয়। তবে শীর্ষ আদালত জানায়, রাজীব চাইলে আগাম জামিনের আবেদন করতে পারেন। সেইমতো তিনি আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন। ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর রাজীবের আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছিল হাইকোর্ট। তিনদিনের মধ্যে ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যায় সিবিআই। ওই বছরের ২৫ এবং ২৯ নভেম্বর মামলাটি শোনে আদালত। দ্বিতীয় শুনানির দিন রাজীবকে নোটিশ জারি করা হয়। সে বছর ২০ ডিসেম্বর শীর্ষ আদালতের নোটিশ পান রাজীব। এরপরে এই মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে কয়েকটি আবেদন জমা পড়ে আদালতে। যদিও শুনানির কোনও অগ্রগতি দেখা যায়নি। এতদিন পর গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টে রাজীবের মামলা আবার ওঠে। এখন এর কী গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে? প্রশ্ন তোলে আদালত। এদিন আদালতের তরফে আবেদন বাতিল করে দেওয়া হল।














