কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আবহে বাংলার রাজনীতির আঙিনায় আচমকাই প্রবেশ করল প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তান! পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফের (Pakistan Defence Minister, Khawaja Asif) ‘কলকাতায় হামলা’র (Kolkata Threat) হুমকিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাগযুদ্ধ। এতদিন এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা নীরব থাকলেও, মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে ভোটপ্রচারে এসে অবশেষে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)।
পাকিস্তানি মন্ত্রীকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রাজনাথ সিং বলেন, “৫৫ বছর আগের কথা মনে রাখা উচিত পাকিস্তানের। কী করে দু’টুকরো হয়েছিল! আবার কিছু করার চেষ্টা করলে পরিণতি কী হবে, সেটা ওরাই বুঝতে পারবে।”
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। কেরলে এক নির্বাচনী সভায় রাজনাথ সিং মন্তব্য করেছিলেন যে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযান এখনও শেষ হয়নি এবং পাকিস্তান কোনও দুঃসাহস দেখালে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করা হবে। এর পাল্টা জবাবে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ দাবি করেন, ভারত ফের কোনও সাজানো হামলার ছক কষছে। এই প্রসঙ্গেই তিনি হুমকি দেন যে, পাকিস্তান এবার কলকাতা পর্যন্ত হামলা চালাবে।
পাক মন্ত্রীর এই হুমকির পর কেন মোদি-শা বা রাজনাথ চুপ, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নদিয়ার সভা থেকে মমতা প্রশ্ন করেন, “পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কলকাতাকে হুমকি দিলেও কেন প্রধানমন্ত্রী চুপ? কে বলিয়েছে তাঁকে দিয়ে?” অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও এক ধাপ এগিয়ে সরাসরি আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কলকাতা উড়িয়ে দেওয়ার কথা বলছেন, আর প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আঙুল চুষছেন! যেদিন কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর ইন্ডিয়া জোটের সরকার হবে, খাজা আসিফকে ঘরে ঢুকে মেরে আসব।’
মঙ্গলবার ব্যারাকপুরে প্রচারের মূল মঞ্চ থেকে রাজনাথ সিং পাক প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেলেও, সরাসরি নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (CM Mamata Banerjee)। তিনি অভিযোগ করেন, ‘গতবার বাংলার মানুষ নিজেদের মেয়েকে চেয়ে ভোট দিলেও মুখ্যমন্ত্রী বাংলার মানুষের ‘পিঠে ছুরি মেরেছেন’। এ রাজ্যে শিল্প নেই, বেকারত্ব বাড়ছে এবং দুর্নীতি সর্বস্তরে পৌঁছেছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তৃণমূল সরকার অনুপ্রবেশকারীদের মদত দিচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েই তিনি পাকিস্তানের ৫৫ বছর আগের হারের (১৯৭১-এর যুদ্ধ) কথা মনে করিয়ে দিয়ে কড়া বার্তা দেন রাজনাথ সিং।














