Ration Card Split: অনেক সময় পারিবারিক বিবাদ, বিবাহ বা অন্য কোনো কারণে একই পরিবারের রেশন কার্ড আলাদা করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। আগে এই কাজের জন্য খাদ্য দপ্তরের অফিসে বারবার ছুটতে হতো, কিন্তু বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর এই প্রক্রিয়াটিকে সম্পূর্ণ অনলাইন এবং সহজ করে দিয়েছে। এখন বাড়িতে বসেই আপনি আপনার রেশন কার্ডের পরিবার বিভাজন বা ‘Family Split’ করতে পারেন। তবে আবেদন করার আগে বেশ কিছু কড়া নিয়ম ও শর্ত জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি, কারণ নিয়ম না মানলে আপনার আবেদন বাতিল হতে পারে।
পরিবার আলাদা করার ক্ষেত্রে কার আবেদন গ্রহণযোগ্য?
রেশন কার্ড আলাদা করার ইচ্ছে থাকলেই যে কেউ আবেদন করতে পারবেন না। এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু মাপকাঠি নির্ধারণ করেছে খাদ্য দপ্তর। মূলত তিনটি বিষয় মাথায় রেখে আপনাকে এগোতে হবে:
- সদস্য সংখ্যা সংক্রান্ত নিয়ম: আপনার বর্তমান ডিজিটাল রেশন কার্ডের পরিবারে যদি ৭ জনের কম সদস্য থাকে, তবে আপনি পরিবার আলাদা করার আবেদন করতে পারবেন না। অর্থাৎ, ‘স্প্লিট’ করার জন্য মূল পরিবারে অন্তত ৭ জন বা তার বেশি সক্রিয় সদস্য থাকা বাধ্যতামূলক।
- কার্ডের ক্যাটাগরি: আপনার কার্ডটি যদি ‘অন্ত্যোদয় অন্ন যোজনা’ (AAY) তালিকাভুক্ত হয়, তবে আপনি এই অনলাইন সুবিধা পাবেন না। শুধুমাত্র PHH, SPHH, RKSY-I এবং RKSY-II ক্যাটাগরির উপভোক্তারা এই সুবিধা পাবেন।
- নতুন সদস্য ও সময়সীমা: যদি আপনার পরিবারে সম্প্রতি ৪ নম্বর ফর্ম (নতুন সদস্য) বা ১৪ নম্বর ফর্মের (ট্রান্সফার) মাধ্যমে কোনো সদস্য যুক্ত হয়ে থাকেন, তবে তার যুক্ত হওয়ার দিন থেকে ২ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত পরিবার বিভাজন করা যাবে না।
অনলাইনে ১৩ নম্বর ফর্ম ফিলাপের পদ্ধতি
পরিবার বিভাজনের জন্য নির্দিষ্ট ফর্মটি হলো ‘Form 13’। স্মার্টফোন বা কম্পিউটার থেকে খুব সহজেই নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে আবেদন করা যায়:
১. লগইন প্রক্রিয়া: প্রথমে খাদ্য দপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ‘Citizens Home’ অপশনে যান। সেখানে রেশন কার্ড কর্নার থেকে অনলাইন আবেদনে ক্লিক করে, পরিবারের যেকোনো একজন সদস্যের আধার নম্বর ও ওটিপি (OTP) দিয়ে পোর্টালে প্রবেশ করুন।
২. ফর্ম নির্বাচন ও সদস্য বাছাই: ড্যাশবোর্ডের বাঁ-দিকে ‘Online Form’ সেকশন থেকে ‘Form 13’ বেছে নিন। এরপর স্ক্রিনে পরিবারের সকল সদস্যের নাম দেখা যাবে। যারা আলাদা হয়ে নতুন পরিবার গড়তে চান, শুধুমাত্র তাঁদের নামের পাশে টিক চিহ্ন দিন। মনে রাখবেন, যে আধার নম্বর দিয়ে লগইন করেছেন, সেই ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন পরিবারের অংশ হিসেবে নির্বাচিত থাকবেন।
৩. পুরানো পরিবারের সম্মতি: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। নতুন পরিবার আলাদা হওয়ার জন্য পুরানো বা মূল পরিবারের সম্মতির প্রয়োজন। যারা পুরানো পরিবারে থেকে যাচ্ছেন, তাঁদের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নিয়ে আধার ওটিপি ভেরিফিকেশন করতে হবে। এটি প্রমাণ করে যে, এই বিভাজনে মূল পরিবারের কোনো আপত্তি নেই।
৪. নথি আপলোড: সবশেষে, নতুন পরিবারের প্রধানের (যিনি লগইন করেছেন) এবং পুরানো পরিবারের যিনি সম্মতি দিলেন—উভয়ের আধার কার্ড এবং রেশন কার্ড স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে। ফাইলের সাইজ যেন ৩৫০ কেবি-র কম এবং ফরম্যাট পিডিএফ বা জেপিজি হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
অনুমোদন ও রেশন পাওয়ার সময়সীমা
আবেদন সফলভাবে সাবমিট করার পর সাধারণত ১ থেকে ৭ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। আপনি ওয়েবসাইট থেকে নতুন ই-রেশন কার্ড ডাউনলোড করে দেখতে পারেন, সেখানে যদি দেখেন শুধুমাত্র আলাদা হওয়া সদস্যদের নাম রয়েছে, তবে বুঝবেন প্রক্রিয়া সফল হয়েছে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: অনলাইনে কার্ড আলাদা হয়ে গেলেও, রেশন দোকান বা ডিলারের কাছে থাকা ই-পস (e-POS) মেশিনে এই তথ্য আপডেট হতে কিছুটা সময় লাগে। সাধারণত, যে মাসে আপনি আবেদন করবেন ও অনুমোদন পাবেন, তার ঠিক পরের মাস থেকে নতুন পরিবার হিসেবে রেশন তুলতে পারবেন। তাই কার্ড হাতে পাওয়ার পর ডিলারের কাছে তথ্য না থাকলে চিন্তার কোনো কারণ নেই, পরবর্তী মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।














