প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: বয়স ১০৪ বছর। চোখের সামনে দেখেছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, হাওড়া ব্রিজের নির্মাণ, এমনকি গান্ধীজীর ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন। সেই দেশ স্বাধীন হওয়ার আগের মানুষটিকেও নিজের দেশে ‘বিচারাধীন’ ভোটারের তকমা নিয়ে লড়াই করতে হলো। অবশেষে স্বস্তি। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েতের বত্রিশবিঘা গ্রামের বাসিন্দা শেখ ইব্রাহিম (Sheikh Ibrahim) ফিরে পেলেন তাঁর ভোটাধিকার। সঙ্গে তাঁর দুই ছেলে ও পুত্রবধূরাও দেশের বৈধ নাগরিক ও ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
গত ২৯ জানুয়ারি বাংলার এসআইআর (SIR) পর্বে শেখ ইব্রাহিমকে সশরীরে বিডিও অফিসে শুনানির জন্য নোটিশ পাঠানো হয়। ১০৪ বছর বয়সে বিডিও অফিসে হাজির হওয়ার কথা শুনে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। পরে নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে নথিপত্র যাচাই করেন। তা সত্ত্বেও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ‘বিচারাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন এই বৃদ্ধ। আক্ষেপ করে তিনি বলেছিলেন, “১০৪ বছর বয়সেও বেঁচে আছি, এটাই কি আমার অপরাধ?”
মঙ্গলবার নিজের বাড়িতে বসে বয়সের ভারে ন্যুব্জ শেখ ইব্রাহিম বলেন, “দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর লোকসভা ভোট— সবখানেই ভোট দিয়েছি। মাঝপথে আমায় অপদস্ত হতে হয়েছিল। যাক, শেষ অবধি কমিশন আমায় ভারতের প্রকৃত নাগরিক মেনে নিল। এতে আমি খুব খুশি।” তাঁর ছেলে শেখ রাইহান উদ্দিন ও আরেফুল ইসলাম জানান, সোমবার গভীর রাতে প্রকাশিত কমিশনের সাপ্লিমেন্টারি (অতিরিক্ত) তালিকায় বাবার নাম বৈধ ভোটার হিসেবে দেখে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন।
এই ঘটনায় সরব হয়েছেন জামালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী ভূতনাথ মালিক। তিনি বলেন, “দেশের এমন প্রবীণ নাগরিককে নিয়ে দুশ্চিন্তায় রাখা কমিশনের ঠিক হয়নি। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করেছেন বলেই আজ শেখ ইব্রাহিমরা ন্যায়বিচার পেলেন।”
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য এখন মুখিয়ে আছেন বত্রিশবিঘা গ্রামের সব থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ এই মানুষটি ও তাঁর পরিবার।














