পশ্চিমবঙ্গ সরকার নির্বাচন কমিশন ২০২৫ সালের জন্য বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে, যা এই বছরের আগস্ট মাস থেকে কার্যকর হবে। এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো ভোটার তালিকার সমস্ত তথ্য নির্ভুল এবং আপ-টু-ডেট করা। প্রত্যেক ভোটারকে একটি করে গণনা ফর্ম (enumeration form) পূরণ করে এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে হবে। এই কাজটি অনলাইন এবং অফলাইন উভয় পদ্ধতিতেই করা যাবে। আসুন, এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
আরও পড়ুন : এই সব খাবার খেলে নষ্ট হতে পারে লিভার, জেনে নিন !
গণনা ফর্ম পূরণের নিয়মাবলী
ফর্মে আপনার নাম, EPIC নম্বর, ঠিকানা, সিরিয়াল নম্বর, পার্ট নম্বর এবং নির্বাচনী এলাকার বিবরণ আগে থেকেই প্রিন্ট করা থাকবে। আপনাকে নিম্নলিখিত তথ্যগুলি পূরণ করতে হবে:
- একটি নতুন রঙিন ছবি লাগাতে হবে।
- আপনার জন্ম তারিখ উল্লেখ করতে হবে।
- আধার নম্বর (ঐচ্ছিক) এবং মোবাইল নম্বর দিতে হবে।
- বাবা, মা বা স্বামী / স্ত্রীর বিবরণ এবং তাদের EPIC নম্বর (যদি থাকে) প্রদান করতে হবে।
প্রয়োজনীয় নথি
জন্ম তারিখের উপর ভিত্তি করে আপনাকে কিছু নির্দিষ্ট নথি জমা দিতে হবে।
- জন্ম ১লা জুলাই, ১৯৮৭-এর আগে হলে: জন্ম এবং জন্মস্থানের প্রমাণপত্র হিসেবে একটি নথি অথবা ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নামের প্রমাণ।
- জন্ম ১লা জুলাই, ১৯৮৭ থেকে ১লা জানুয়ারী, ২০০২-এর মধ্যে হলে: নিজের জন্য একটি এবং বাবা-মায়ের জন্য একটি নথি অথবা ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নামের প্রমাণ।
- জন্ম ১লা জানুয়ারী, ২০০২-এর পরে হলে: নিজের জন্য একটি, বাবার জন্য একটি এবং মায়ের জন্য একটি নথি।
- বাবা-মা ভারতীয় নাগরিক না হলে, তাদের পাসপোর্ট/ভিসা জমা দিতে হবে।
- ভারতের বাইরে জন্ম হলে, বিদেশের ভারতীয় মিশন দ্বারা জারি করা জন্ম নিবন্ধনপত্র প্রয়োজন।
জমা দেওয়ার পরবর্তী প্রক্রিয়া
ফর্ম জমা দেওয়ার পর বিভিন্ন পর্যায়ে তা যাচাই করা হবে এবং অবশেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
- BLO সুপারভাইজাররা কাজের গুণমান এবং পরিমাণ পরীক্ষা করবেন।
- AERO-রা BLO দ্বারা সুপারিশ না করা ফর্মগুলি যাচাই করবেন।
- খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং জনসাধারণের কাছ থেকে দাবি ও আপত্তি গ্রহণ করা হবে।
- সমস্ত দাবি ও আপত্তির নিষ্পত্তির পর, কমিশনের অনুমোদন নিয়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।













