SIR 2026 Hearing: এসআইআর (SIR) বা সামারি ইনটেনসিভ রিভিশন ২০২৬-এর শুনানি প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগের শেষ নেই। ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি এই শুনানি বা হেয়ারিং সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আপডেট সামনে এসেছে যা প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের জানা প্রয়োজন। আগামী শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ শুনানি পর্ব শুরু হতে চলেছে। এই প্রতিবেদনে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কাদের শুনানিতে প্রথমে ডাকা হবে, বিএলও-দের ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
শুনানিতে কাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে?
শুনানি প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে। তবে শুরুর দিকে নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির মানুষকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডাকা হবে। মূলত যাদের জমা দেওয়া তথ্যে বড়সড় অসামঞ্জস্য বা গরমিল রয়েছে, তাদেরই প্রথমে তলব করা হবে। কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই তালিকায় যারা রয়েছেন:
- ২০০২ সালের তথ্যের অভাব: যে সমস্ত ব্যক্তি ২০০২ সালের ভোটার তালিকার তথ্যের সাথে বর্তমান তথ্যের কোনো প্রকার ম্যাপিং বা যোগসূত্র দেখাতে পারেননি, তাদের শুনানিতে ডাকার সম্ভাবনা প্রবল। এই লিঙ্কিং প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
- নথিপত্র জমা না দেওয়া: নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও যারা কোনো বৈধ নথিপত্র বা সাপোর্টিং ডকুমেন্ট জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে কমিশন কঠোর হতে পারে এবং শুনানির শুরুতেই তাদের ডাকা হবে।
- ত্রুটিপূর্ণ ফর্ম পূরণ: যাদের পূরণ করা ফর্মে প্রদত্ত তথ্যের সাথে বাস্তবের মিল পাওয়া যাচ্ছে না অথবা যারা এনুমারেশন ফর্ম (Enumeration Form) যথাযথভাবে বা সম্পূর্ণভাবে পূরণ করেননি, তাদের এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
বিএলও এবং নথিপত্র যাচাইকরণে ইআরও-দের ভূমিকা
মাঠ পর্যায়ে ইতিমধ্যেই বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-রা (BLO) তাদের কাজ অনেকটা এগিয়ে রেখেছেন। সন্দেহজনক ভোটার এবং যাদের নাম বা আত্মীয়ের নাম ২০০২ সালের তালিকায় খুঁজে পাওয়া যায়নি, তাদের কাছ থেকে নথিপত্র সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে আপলোড করা হয়েছে।
ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার বা ইআরও-দের (ERO) ওপর বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ মঙ্গলবারের মধ্যে এই সমস্ত আপলোড করা নথি তাদের খতিয়ে দেখতে হবে। যদিও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া একটি চলমান পদ্ধতি, তবুও শুনানি পর্ব তার আগেই শুরু হয়ে যাচ্ছে। যারা বিএলও-র কাছে ডকুমেন্ট চাওয়া সত্ত্বেও তা জমা দেননি, শুনানির প্রথম পর্বেই তাদের ডেকে পাঠানো হবে। অর্থাৎ, নথিপত্র জমা না দেওয়ার বিষয়টি বেশ গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।
সন্দেহজনক ভোটারদের ক্ষেত্রে করণীয় ও স্বস্তি
২০০২ সালের তালিকায় নিজের বা কোনো আত্মীয়ের নাম নেই, এমন ভোটারদের শুনানির সম্মুখীন হতে হবে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের চোখে যারা ‘সন্দেহজনক’ বা ‘Doubtful’ হিসেবে চিহ্নিত, তাদেরও ডাকার সম্ভাবনা প্রবল। তবে এ ক্ষেত্রে ভয়ের কিছু নেই, যদি আপনার কাছে সঠিক প্রমাণ থাকে। কিছু ক্ষেত্রে ভোটাররা শুনানি থেকে অব্যাহতিও পেতে পারেন:
- বিএলও স্তরে সমাধান: সন্দেহজনক ভোটারদের তালিকা আগেই বিএলও-দের কাছে পাঠানো হয়েছিল। যদি সংশ্লিষ্ট ভোটার উপযুক্ত নথি দিয়ে নাম বা পদবীর বানান ভুলের মতো ছোটখাটো সমস্যা বিএলও স্তরেই মিটিয়ে ফেলতে পারেন, তবে তাদের শুনানিতে নাও ডাকা হতে পারে।
- সন্তোষজনক রিপোর্ট: যদি বিএলও যাচাই-বাছাই করে সিস্টেমে ‘সন্তোষজনক মন্তব্য’ (Satisfactory remarks) দেন যে তথ্যাদি ঠিক আছে, তবে সেই ভোটারদের শুনানিতে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে।
মূলত, যাদের ক্ষেত্রে কোনো নথিপত্র বা তথ্যের কোনো মিল পাওয়া যাবে না, তাদেরকেই শুনানিতে উপস্থিত হয়ে নিজেদের নাগরিকত্বের বা বাসস্থানের প্রমাণ দিতে হবে। পরবর্তী স্তরে নতুন কোনো আপডেট আসলে তা যথাসময়ে জানানো হবে।














