SIR Hearing: SIR হেয়ারিং এর 3টি নোটিশ, জানুন কমিশনের নতুন নির্দেশিকা

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

SIR Hearing: নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে রাজ্যের অগণিত ভোটার অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। বিশেষ করে যারা জীবিকা, শিক্ষা বা চিকিৎসার প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে থাকেন, তাদের জন্য এসআইআর (SIR) হেয়ারিং এক প্রকার মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। গত ৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গের চিফ ইলেক্টরাল অফিসারের (CEO) দপ্তর থেকে জারি করা তিনটি পৃথক নোটিশের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কাদের সশরীরে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই?

কমিশনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, বেশ কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্রে ভোটারদের সশরীরে হেয়ারিং-এ উপস্থিত থাকার কঠোর বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে। মূলত যারা রাজ্যের বাইরে বা দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তাদের সুবিধার্থেই এই বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। নিম্নলিখিত ক্যাটাগরির ভোটাররা এই সুবিধা পাবেন:

  • সরকারি ও আধা-সরকারি কর্মী: রাজ্যের বাইরে কর্মরত সরকারি কর্মচারী, সেনা জওয়ান (মিলিটারি ও প্যারামিলিটারি) এবং পিএসইউ (PSU) বা পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং-এর কর্মীরা এই ছাড়ের আওতায় পড়বেন।
  • বেসরকারি কর্মী ও শিক্ষার্থী: যারা উচ্চশিক্ষার জন্য ভিনরাজ্যে আছেন অথবা বেসরকারি সংস্থায় (Private Sector) চাকরির সূত্রে বাইরে থাকেন, তাদেরও আর কষ্ট করে বাড়ি ফিরতে হবে না।
  • অসুস্থ ব্যক্তি: চিকিৎসার প্রয়োজনে বা গুরুতর অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি থাকা ব্যক্তিরাও সশরীরে হাজিরা থেকে অব্যাহতি পাবেন।
  • বিদেশে বসবাসকারী: কর্মসূত্রে, পড়াশোনার জন্য বা অন্য কোনো দাপ্তরিক কাজে যারা সাময়িকভাবে বিদেশে অবস্থান করছেন, তাদের জন্যও নিয়ম অনেক সহজ করা হয়েছে।

বিকল্প পদ্ধতি: কীভাবে সম্পন্ন হবে হেয়ারিং?

সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও হেয়ারিং প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য কমিশন একটি বিকল্প রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছে। ভোটার নিজে উপস্থিত না থাকতে পারলে, তার পরিবারের কোনো সদস্য প্রতিনিধি হিসেবে শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন। তবে এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মানতে হবে:

  • প্রয়োজনীয় নথি: পরিবারের সদস্যকে ওই ভোটারের হয়ে নির্দিষ্ট নথিপত্র জমা দিতে হবে। কমিশনের ২৭/১০/২০২৫ তারিখের নির্দেশিকা অনুযায়ী যে ১৩টি নথি গ্রাহ্য, তার মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র দেখাতে হবে।
  • সম্পর্কের প্রমাণ: যিনি প্রতিনিধি হিসেবে যাচ্ছেন, তাকে অবশ্যই মূল ভোটারের সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্কের বৈধ প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে।
  • অথরাইজেশন লেটার: বিশেষ করে যারা বিদেশে আছেন, তাদের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যকে একটি ‘অথরাইজেশন লেটার’ বা অনুমদোন পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। প্রবাসীদের ক্ষেত্রে মূল নথিপত্র সবসময় হাতের কাছে নাও থাকতে পারে, তাই তাদের নথির জেরক্স বা অনলাইন কপিও গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

দেরিতে হলেও সঠিক সিদ্ধান্ত?

রাজ্যের সমস্ত জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DEO), ইআরও (ERO) এবং মাইক্রো অবজার্ভারদের কাছে এই নির্দেশিকা পাঠিয়ে তা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আনম্যাপড (Unmapped) এবং লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি (Logical Discrepancy)—উভয় ধরনের হেয়ারিং-এর ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত জনস্বার্থবাহী হলেও তা আরও আগে নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেক কম হতো। হেয়ারিং প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার বেশ কিছুদিন পর এই নোটিশ আসায়, শুরুর দিকে অনেকেই অহেতুক হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। কমিশনের পূর্ব পরিকল্পনায় কিছুটা খামতি ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তবুও, শেষ পর্যন্ত এই নির্দেশিকা আসায় রাজ্যের বাইরে থাকা হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবেন।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন