SSC Court Order: কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসি ফের একবার বড়সড় চাপের মুখে পড়ল। নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে এবার কমিশনকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দিলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। ১৮ নম্বর কোর্টে চলা শুনানিতে বিচারপতির কড়া অবস্থান এবং কমিশনের প্রতি একাধিক নির্দেশ চাকরিপ্রার্থীদের মনে নতুন করে আশার আলো জাগিয়েছে।
আদালতের কড়া নির্দেশ: কী কী তথ্য প্রকাশ করতে হবে?
বিচারপতি অমৃতা সিনহা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, শুধুমাত্র একটি সাধারণ তালিকা প্রকাশ করলেই চলবে না। স্বচ্ছতার খাতিরে ‘টেন্টেড’ বা অভিযুক্ত প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জনসমক্ষে আনতে হবে। কমিশনের আইনজীবীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে প্রকাশিতব্য তালিকায় নিম্নলিখিত তথ্যগুলি বাধ্যতামূলকভাবে থাকতে হবে:
- প্রার্থীর রোল নম্বর (Roll Number)
- জন্ম তারিখ (Date of Birth)
- অভিভাবকের নাম (Parent’s Name)
- বিষয় (Subject)
- জেলা (District)
- স্কুলের নাম (School)
- ক্যাটাগরি (Category)
এই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য হলো যাতে ২০১৬ এবং ২০২৫ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রার্থীদের মধ্যে স্পষ্টভাবে পার্থক্য করা যায়। ওএমআর (OMR) শিট সংক্রান্ত গরমিল বা প্যানেলের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার কারণে কারা অভিযুক্ত, তা পরিষ্কারভাবে বোঝা যাবে এই তালিকার মাধ্যমে।
শুনানির প্রেক্ষাপট ও আইনজীবীদের সওয়াল
আদালতে মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে প্রকাশিত তালিকায় স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। অ্যাডভোকেট ফিরদৌস শামিম জানান, ২০১৬ সালের নিয়োগের ৯৫২ জন ওএমআর মিসম্যাচ প্রার্থী এবং পরবর্তী রিক্রুটমেন্টের ১৮০৬ জন প্রার্থীর বিষয়টি গুলিয়ে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, ‘আনটেন্টেড’ (স্বচ্ছ) এবং ‘টেন্টেড’ (অভিযুক্ত) প্রার্থীদের আলাদা করতে জেলাভিত্তিক বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করা অত্যন্ত জরুরি।
অন্যদিকে, অ্যাডভোকেট আলি আহসান আলমগীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটির দিকে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি জানান, ২০১৬ সালে এমন অনেক প্রার্থী ছিলেন যারা নিয়োগপত্র বা অফার লেটার পেলেও চাকরিতে যোগদান করেননি। অথচ, তাঁদের নামও বর্তমান ‘টেন্টেড’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে, এই প্রার্থীরা চলতি বছরের পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া থেকে অন্যায়ভাবে বাদ পড়ছেন। এটি কমিশনের একটি বড় ভুল পদক্ষেপ বলে তিনি দাবি করেন।
কমিশনের বক্তব্য ও পরবর্তী পদক্ষেপ
শুনানি চলাকালীন কমিশনের আইনজীবীরা জানান, সিবিআই-এর নির্দেশ মেনেই তাঁরা ১৮০৬ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন। তবে ৯৫২ জন ওএমআর মিসম্যাচ প্রার্থীর তালিকা প্রকাশের বিষয়ে বিচারপতির প্রশ্নের মুখে কমিশন স্বীকার করে যে, প্রক্রিয়াটি চলছে এবং শীঘ্রই তা প্রকাশ করা হবে।
আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ তারিখ:
- ১৩ই জানুয়ারি: প্যানেলের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া সংক্রান্ত মামলার শুনানি রয়েছে। সিবিআই-এর তালিকা অনুযায়ী, যারা ৩১শে ডিসেম্বর বা ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত চাকরিতে বহাল নেই, তাঁদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে।
- ২৭শে জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি: ইডব্লিউএস (EWS) এবং অন্যান্য কিছু মামলার শুনানি পিছিয়ে এই সময়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আদালতের এই নির্দেশ কার্যকর হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিনের জমে থাকা ধোঁয়াশা অনেকটাই কাটবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।














