SSC Recruitment: ভোটের আগেই সুখবর! জানুয়ারিতেই প্যানেল, ফেব্রুয়ারিতে নিয়োগ— দিনক্ষণ জানাল এসএসসি

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

SSC Recruitment: রাজ্যের হবু শিক্ষকদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার ঠিক আগেই শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বড়সড় সুখবর নিয়ে এল স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসি। একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতি এনে কমিশন জানিয়েছে, সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে আগামী মাসেই, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতেই নতুন শিক্ষকরা স্কুলে যোগ দিতে পারবেন। দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও টালবাহানার পর এই খবরে আশার আলো দেখছেন লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থী।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার দিনক্ষণ ও সময়সূচী

কমিশন সূত্রে খবর, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে চলছে স্ক্রুটিনির কাজ, যা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এসএসসি-র পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি মাসের ২০ থেকে ২১ তারিখের মধ্যেই চূড়ান্ত মেধা তালিকা বা প্যানেল প্রকাশ করা হতে পারে।

প্যানেল প্রকাশের পরপরই শুরু হবে কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া। কমিশনের লক্ষ্য হলো, ফেব্রুয়ারির মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করে নতুন শিক্ষকদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা রাজ্য সরকারের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং অগ্রাধিকারের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শূন্যপদ ও পরীক্ষার্থীর পরিসংখ্যান

এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজ্যের স্কুলগুলিতে বড়সড় শূন্যপদ পূরণ হতে চলেছে। এসএসসি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী পরিসংখ্যানটি নিম্নরূপ:

  • মোট শূন্যপদ: ১২,৫১৪ টি
  • মোট পরীক্ষার্থী: ২,২৯,৬০৬ জন

একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণীর স্তরে এই বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ পূরণ হলে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায়, বিশেষ করে গ্রাম বাংলার স্কুলগুলিতে শিক্ষক সংকট অনেকটাই মিটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইনি প্রেক্ষাপট ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ

শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে গত কয়েক বছর ধরে তোলপাড় হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। কলকাতা হাইকোর্ট এবং পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেল বাতিল হয়েছিল, যার ফলে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী চাকরি হারান। যদিও সুপ্রিম কোর্ট পরে নির্দেশ দেয় যে, নতুন নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত ‘যোগ্য’ চাকরিহারা শিক্ষকরা আপাতত বহাল থাকবেন।

সর্বোচ্চ আদালত এসএসসি-কে দ্রুত নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছিল। প্রাথমিক ডেডলাইন ৩১ ডিসেম্বর থাকলেও, তা বাড়িয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে আদালতের নির্দেশ মেনেই স্বচ্ছতার সাথে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করতে তৎপর কমিশন।

রাজনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব

সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা শাসক দলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধীরা অবশ্য একে ‘ভোটমুখী চমক’ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট মেটাতে সরকার এতদিন উদাসীন ছিল, এখন ভোটের স্বার্থে তড়িঘড়ি করা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক তরজা যাই থাক, রাজ্যের স্কুলগুলিতে যে শিক্ষক সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে, তা অনস্বীকার্য। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হলে ছাত্রছাত্রী এবং স্কুলগুলির পঠনপাঠনে বড়সড় সুরাহা হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন