SSC Salary Recovery: রাজ্যের শিক্ষা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এক নজিরবিহীন এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে, এসএসসি (SSC) দ্বারা নিযুক্ত ‘অযোগ্য’ বা ‘Tainted’ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের চাকরি বাতিলের পাশাপাশি এবার তাদের প্রাপ্ত বেতন সুদসহ ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তর থেকে এই মর্মে জেলা শাসকদের কাছে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের বাস্তবায়ন
এই পুরো প্রক্রিয়াটি ‘State of West Bengal Vs. Baishakhi Bhattacharyya Chatterjee’ মামলার (SLP No. 9586 of 2024) প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে কার্যকর করা হচ্ছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ‘Fraud’ বা প্রতারণা এবং ‘Cheating’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যারা দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরি পেয়েছিলেন, তাদের সেই নিয়োগ বাতিল বলে গণ্য হবে এবং এতদিন ধরে রাজকোষ থেকে নেওয়া বেতন ফেরত দিতে হবে।
বেতন পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি
রাজ্য সরকারের জারি করা নির্দেশিকায় জেলা শাসকদের (DM) এই অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য কঠোর আইনি পথ অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। মূল বিষয়গুলো হলো:
- পুরনো আইনের প্রয়োগ: ১৯১৩ সালের ‘Bengal Public Demands Recovery Act’ অনুযায়ী অযোগ্য শিক্ষকদের থেকে বেতনের টাকা আদায় করা হবে।
- তথ্য সংগ্রহ: জেলা শাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন সংশ্লিষ্ট জেলার স্কুল পরিদর্শকদের (DI of Schools) সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত পদক্ষেপ নেন।
- তালিকা যাচাই: পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের (WBSSC) অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘Tainted’ বা অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা দেখে নাম ও ঠিকানা চিহ্নিত করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী নোটিশ পাঠাতে হবে।
জেলা স্তরে নির্দেশিকা প্রেরণ
ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই নির্দেশিকা পৌঁছে গেছে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার, বাঁকুড়া এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা শাসকদের উদ্দেশ্যে জারি করা নোটিফিকেশন সামনে এসেছে।
হঠাৎ সক্রিয়তা কেন?
সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং বর্তমান পদক্ষেপের সময়ের মধ্যে ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আদালতের নির্দেশ ছিল স্পষ্ট, তবু রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ নিতে কিছুটা সময় লেগেছে। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, সুপ্রিম কোর্টে নতুন কোনো আদালত অবমাননার মামলা বা শুনানির আগে রাজ্য সরকার নিজেদের অবস্থান স্বচ্ছ রাখতে চাইছে। আদালতের নির্দেশ যে পালন করা হচ্ছে, তা প্রমাণ করতেই তড়িঘড়ি এই বেতন ফেরতের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই নির্দেশের ফলে হাজার হাজার অযোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর ওপর বড়সড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি হতে চলেছে, যা রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা।










