SSC Supreme Court: পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নিয়োগ সংক্রান্ত আইনি জটিলতা যেন কিছুতেই কাটছে না। এবার সুপ্রিম কোর্টে ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং ২০২৫ সালের এসএলএসটি (SLST) সংক্রান্ত বিষয়ে নতুন করে দুটি ‘মিসলেনিয়াস অ্যাপ্লিকেশন’ বা এমএ (MA) দায়ের করা হয়েছে। এই মামলা দুটির মূল লক্ষ্য হলো শীর্ষ আদালতের দেওয়া আগের একটি নির্দেশের কিছু অংশের সংশোধন বা মডিফিকেশন। এই নতুন আইনি পদক্ষেপের ফলে চাকরিপ্রার্থী এবং কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
সুপ্রিম কোর্টে নতুন আবেদনের বিষয়বস্তু
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে যে দুটি এমএ ফাইল করা হয়েছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে এসএসসির নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিয়মাবলীর প্রশ্ন। মূল মামলাটি এসএলপি (SLP) নম্বর ২৩৭৮৪/২০২৫-এর সাথে যুক্ত। মামলাকারীদের উদ্দেশ্য হলো, ২৬শে নভেম্বর ২০২৫ তারিখে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় বা নির্দেশ দিয়েছিল, তার কিছু নির্দিষ্ট অংশের পরিবর্তন করা। বিশেষ করে ‘টেইন্টেড’ (tainted) বা অযোগ্য এবং ‘আনটেইন্টেড’ (untainted) বা যোগ্য প্রার্থীদের পৃথকীকরণ এবং কমিশনের কিছু নিয়ম সংশোধনই এই আবেদনের সারমর্ম।
পূর্ববর্তী নির্দেশের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান গুরুত্ব
নতুন করে এই মডিফিকেশন চাওয়ার পেছনে ২৬শে নভেম্বর ২০২৫-এর সুপ্রিম কোর্টের অর্ডারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক কাজ করছে। সেই সময় আদালত বেশ কিছু কঠোর নির্দেশ দিয়েছিল যা নিয়োগ প্রক্রিয়ার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
সেই অর্ডারের প্রধান চারটি স্তম্ভ ছিল:
- হাইকোর্টের ক্ষমতা: সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছিল যে কলকাতা হাইকোর্ট হলো ‘কোর্ট অফ ফাস্ট ইনস্ট্যান্স’। অর্থাৎ, কোনো প্রার্থীর অভিযোগ বা সমস্যা থাকলে তার প্রতিকারের জন্য প্রথমেই হাইকোর্টে আবেদন করতে হবে।
- অযোগ্যদের প্রবেশে বাধা: আদালত কঠোরভাবে জানিয়েছিল, নতুন কোনো সিলেকশন প্রসেস বা নিয়মের ফাঁক গলে কোনোভাবেই যেন অযোগ্য বা ‘টেইন্টেড’ প্রার্থীরা নিয়োগের তালিকায় ঢুকে না পড়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব হাইকোর্টের।
- স্বচ্ছ তালিকা প্রকাশ: কারা অযোগ্য বা ‘টেইন্টেড’, তাদের বিস্তারিত তালিকা পাবলিক ডোমেইনে বা সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করার নির্দেশ ছিল। যদিও সেই নির্দেশ এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ উঠছে।
- যোগ্যদের সুরক্ষা কবচ: আদালতের অন্যতম বড় পর্যবেক্ষণ ছিল, ২০১৬ সালের প্যানেলে যারা প্রকৃত যোগ্য বা ‘আনটেইন্টেড’ প্রার্থী, নতুন কোনো নিয়মের বেড়াজালে তাদের যেন কোনো ক্ষতি না হয় বা তাদের চাকরি বাতিল না হয়।
বর্তমানে দায়ের করা নতুন মামলাগুলির মাধ্যমে সম্ভবত এই বিষয়গুলিরই আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা নিয়মের সামান্য রদবদল চাওয়া হয়েছে। আগামী দিনে এই মামলার শুনানি এসএসসির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।














