Strait of Hormuz | হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ‘দাদাগিরি’, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি হাহাকার! রণকৌশল সাজিয়ে ময়দানে ৬ দেশের জোট

By Bangla News Dunia Dinesh

Published on:

উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ ইরান ও ইজরায়েলের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রভাবে কার্যত রুদ্ধ হয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz)। তেহরানের লাগাতার হুমকির মুখে এই জলপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। তেলের দাম আকাশছোঁয়া, গ্যাসের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে বিভিন্ন দেশে। এই অচলাবস্থা কাটাতে এবার জোটবদ্ধ হয়ে ময়দানে নামল ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস এবং জাপান।

বিশ্বের এই প্রথম সারির ছয়টি দেশ এক মিলিত বিবৃতিতে ইরানের ‘অবিবেচনামূলক’ হামলার কড়া নিন্দা করেছে। তাদের অভিযোগ, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে এই জরুরি সমুদ্রপথে বাধা সৃষ্টি করছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে খাদের কিনারে ঠেলে দিচ্ছে। এই ছয় দেশ স্পষ্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি বোঝাই জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে তারা সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে প্রস্তুত।

রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই জোট কেবল হরমুজ প্রণালী রক্ষা নয়, বরং কাতার ও সৌদি আরবের তেল-গ্যাস প্ল্যান্টে ইরানের হামলারও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। কাতার এনার্জি জানিয়েছে, ইরানের এই আক্রমণের ফলে তাদের এলএনজি (LNG) রপ্তানি ক্ষমতা ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে দাঁড়িয়েছে তারা। সৌদি আরবের খনিগুলিতেও হামলার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

আমেরিকা ও ইজরায়েল বনাম ইরান— এই ত্রিমুখী লড়াইয়ের জেরে হরমুজ প্রণালীতে বর্তমানে শতাধিক জ্বালানি বোঝাই জাহাজ আটকে রয়েছে। ইরান এই জাহাজগুলির ওপর ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে ৬ দেশের এই জোট জানিয়েছে:

  • তারা সম্মিলিতভাবে এই সমুদ্রপথে জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
  • জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলির (কাতার ও সৌদি আরব) পাশে দাঁড়াবে।
  • জ্বালানির বাজারে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে প্রয়োজনে কড়া পদক্ষেপ নেবে।

হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। জ্বালানি সংকটের প্রভাবে ইউরোপ ও এশিয়ার একাধিক দেশে মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শান্তি বজায় রাখার পরামর্শ দিয়ে এই ৬ দেশ দাবি করেছে, বিশ্ব অর্থনীতিকে বাঁচাতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Bangla News Dunia Dinesh

মন্তব্য করুন