উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ধর্ম পরিবর্তন নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্ম ছাড়া অন্য কোনও ধর্মে দীক্ষিত (Conversion) হলে কোনও ব্যক্তি আর তপশিলি জাতি (Scheduled Caste) হিসেবে নিজের দাবি বজায় রাখতে পারবেন না। অর্থাৎ, খ্রিস্টান বা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ (Christianity or Islam) করলে ওই ব্যক্তি আইনিভাবে তপশিলি জাতির জন্য নির্ধারিত সাংবিধানিক সুরক্ষা বা সুবিধাগুলি পাবেন না।
আদালতের পর্যবেক্ষণ বিচারপতি পিকে মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের পূর্বতন একটি রায়কে বহাল রেখে এই সিদ্ধান্ত জানায়। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সংবিধানের অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেবলমাত্র হিন্দু, শিখ এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাই তপশিলি জাতির অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন। যদি কোনও ব্যক্তি স্বেচ্ছায় অন্য কোনও ধর্মে (যেমন খ্রিস্টধর্ম) ধর্মান্তরিত হন এবং সক্রিয়ভাবে সেই ধর্ম পালন করেন, তবে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তপশিলি জাতির মর্যাদা হারাবেন।
মামলাটি গড়ে উঠেছিল অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা চিন্তাড আনন্দ নামে এক যাজককে কেন্দ্র করে। ওই ব্যক্তি অভিযোগ করেছিলেন যে, তিনি জাতিগত বৈষম্য ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন। সেই মর্মে তিনি ‘তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন’-এর অধীনে একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু তদন্তে দেখা যায়, আনন্দ গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যাজক হিসেবে খ্রিস্টধর্ম প্রচার করছেন এবং নিয়মিত রবিবার প্রার্থনা সভা পরিচালনা করেন।
অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্ট আগেই জানিয়েছিল যে, আবেদনকারী খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করায় তিনি আর তপশিলি জাতিভুক্ত নন। তাই তাঁর ক্ষেত্রে ‘SC/ST Act’ প্রযোজ্য হবে না। সুপ্রিম কোর্টও সেই রায়ে সিলমোহর দিয়ে জানাল, যদি কেউ পুনরায় নিজের আদি ধর্মে ফিরে না আসেন বা সমাজ তাঁকে গ্রহণ না করে, তবে স্রেফ পুরোনো জাতিগত শংসাপত্র থাকলেই তিনি এই সুরক্ষা পাবেন না।
শীর্ষ আদালতের এই রায় ধর্মান্তরিত ব্যক্তিদের তপশিলি সংরক্ষণের অধিকার নিয়ে চলা দীর্ঘকালীন আইনি বিতর্কে একটি বড় দিশা নির্দেশ করল। আদালত স্পষ্ট করে দিল, আইনি সুরক্ষা পেতে গেলে ধর্মীয় পরিচয় একটি অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে।














