Teacher Retirement Age: শিক্ষকদের অবসরের বয়স বেড়ে ৬৫ বছর? মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গেল চিঠি, জানুন বড় আপডেট

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

Teacher Retirement Age: রাজ্যের শিক্ষা মহলে ফের একবার সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুল শিক্ষকদের অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি প্রগ্রেসিভ টিচার্স ফোরাম-এর পক্ষ থেকে রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে, যেখানে শিক্ষকদের অবসরের বয়স ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬৫ বছর করার আবেদন জানানো হয়েছে। মূলত রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান পরিকাঠামো এবং শিক্ষক ঘাটতির কথা মাথায় রেখেই এই দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।

দাবির স্বপক্ষে প্রধান যুক্তি ও কারণ

সংগঠনটির পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো চিঠিতে বেশ কিছু জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে। তাঁদের মতে, এই বয়স বৃদ্ধির দাবি নিছক ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, বরং রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার মঙ্গলের জন্য।

  • সমমর্যাদার সামঞ্জস্য: রাজ্যের সরকারি কলেজের অধ্যাপক এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের চিকিৎসকদের অবসরের বয়সসীমা ইতিমধ্যেই বাড়িয়ে ৬৫ বছর করা হয়েছে। প্রগ্রেসিভ টিচার্স ফোরামের যুক্তি, স্কুল শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও সমমর্যাদা ও সমঅধিকারের ভিত্তিতে এই নিয়ম কার্যকর হওয়া উচিত।
  • চরম শিক্ষক সংকট: বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বহু সরকারি স্কুলে শিক্ষকের অভাব প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক স্কুলে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের অভাবে পঠনপাঠন ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের আরও কিছুদিন কাজে লাগাতে পারলে এই সংকট কিছুটা মেটানো সম্ভব।

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও স্থায়ীকরণের প্রশ্ন

চিঠিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, যা হলো ‘অতিথি শিক্ষক’ বা গেস্ট টিচার নিয়োগ প্রক্রিয়া। দেখা যাচ্ছে, ৬০ বছর বয়সে অবসর নেওয়ার পর অনেক অভিজ্ঞ শিক্ষককেই স্কুলগুলি পুনরায় চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করছে। সংগঠনের বক্তব্য, যদি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদেরই পুনরায় প্রয়োজন হয়, তবে তাঁদের অবসরের বয়স বাড়িয়ে ৬৫ বছর করে দেওয়াই অধিক যুক্তিযুক্ত। এতে শিক্ষকরা তাঁদের প্রাপ্য সম্মান ও স্থায়িত্ব পাবেন এবং স্কুলগুলিও নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা পাবে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও বিতর্ক

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন এবং রাজ্যের বাজেটের প্রাক্কালে অনেকেই আশা করেছিলেন যে সরকার হয়তো এই বিষয়ে কোনো সদর্থক ঘোষণা করবে। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো সরকারি নির্দেশিকা জারি হয়নি। তবে এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশের মতে, অবসরের বয়স বাড়লে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্কুলের মান উন্নত হবে। অন্যদিকে, একটি বড় অংশের যুক্তি হলো, অবসরের বয়স বাড়লে নতুন নিয়োগের সুযোগ কমে যাবে, যা রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এখন দেখার বিষয়, মুখ্যমন্ত্রী এই চিঠির প্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন