Teacher Section Correction: অবশেষে কাটল জট! শিক্ষকদের ‘সেকশন’ নিয়ে বিরাট নির্দেশিকা শিক্ষা দপ্তরের, কাদের কী পরিবর্তন?

By Bangla News Dunia Desk - Pallab

Published on:

Teacher Section Correction: রাজ্যের সরকারি এবং সরকার পোষিত বিদ্যালয়গুলিতে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দীর্ঘদিনের একটি দুশ্চিন্তার অবসান হতে চলেছে। উৎসশ্রী বা ইউডাইস (U-DISE) পোর্টালে শিক্ষকদের ‘সেকশন’ বা বিভাগ নির্ধারণ নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা মেটাতে এবার আসরে নামল স্কুল শিক্ষা দপ্তর। বিশেষ করে ‘নরমাল সেকশন’ এবং ‘আপার প্রাইমারি সেকশন’ নিয়ে যে জটিলতা চলছিল, তা নিরসনে একটি সুস্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

কেন এই নতুন নির্দেশিকা?

দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন দাবি জানিয়ে আসছিল যে, চাকরির শর্ত অনুযায়ী অনেক শিক্ষককে ভুলভাবে পোর্টালে আপার প্রাইমারি সেকশনে দেখানো হচ্ছে। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। গত ১লা সেপ্টেম্বর, ২০২৫-এ সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় এবং পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে স্কুল শিক্ষা দপ্তর (Directorate of School Education) এই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে, গত ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে স্কুল এডুকেশন কমিশনারের দপ্তর থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শক বা ডিআই (Secondary)-দের উদ্দেশ্যে এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।

কাদের কোন সেকশনে রাখা হবে?

নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিক্ষকদের নিয়োগের ধরন এবং সময়কাল বিচার করে তাঁদের সেকশন মাস্টার ডিরেক্টরি ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে সংশোধন করতে হবে। এশানে কাদের কোন বিভাগে রাখা হবে, তার বিস্তারিত রূপরেখা দেওয়া হলো:

  • পুরানো নিয়োগ (RLST): ২০১৬ সালের আগে বা আরএলএসটি (RLST) ব্যবস্থার মাধ্যমে যে সমস্ত শিক্ষক নিযুক্ত হয়েছিলেন, ১৩ই সেপ্টেম্বর ২০২২-এর নিয়ম মেনেই তাঁদের ‘নরমাল সেকশন’ (Normal Section)-এ রাখতে হবে। তাঁদের কোনোভাবেই আপার প্রাইমারি বা সেকেন্ডারি সেকশনে স্থানান্তর করা যাবে না।
  • কর্মশিক্ষা ও শারীরশিক্ষা: ফার্স্ট এসএলএসটি (1st SLST)-এর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত শারীরশিক্ষা এবং কর্মশিক্ষার শিক্ষকদের ‘আপার প্রাইমারি সাব-সেকশন’-এ অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • নতুন আপার প্রাইমারি শিক্ষক: ২০২৪ সাল বা তার পরবর্তী সময়ে যাঁরা নির্দিষ্টভাবে উচ্চ প্রাথমিক স্তরের জন্য নিযুক্ত হয়েছেন, একমাত্র তাঁদেরই ‘আপার প্রাইমারি’ সেকশনে রাখা হবে।
  • সংখ্যালঘু বিদ্যালয়: খ্রিস্টান মিশনারি বা অন্যান্য মাইনরিটি স্কুলের ক্ষেত্রে (পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি), শিক্ষকদের পূর্বের নিয়ম মেনেই ‘নরমাল সেকশন’-এ বহাল রাখা হবে।
  • মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তর: ২০১৬-এর পরবর্তী সময়ে নবম-দশম শ্রেণির জন্য নিযুক্ত শিক্ষকদের ‘সেকেন্ডারি’ এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য নিযুক্তদের ‘হায়ার সেকেন্ডারি’ (HS) সেকশনেই রাখা হবে। এখানে কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই।

পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

এই নির্দেশিকা প্রকাশের পর সাধারণ শিক্ষকদের ব্যক্তিগতভাবে কিছু করার প্রয়োজন নেই। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট জেলার ডিআই অফিস থেকেই পোর্টালের এই সংশোধনের কাজ সম্পন্ন করা হবে। জুনিয়র হাই, হাই এবং হায়ার সেকেন্ডারি— সব ধরনের স্কুলের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে বদলি বা অন্যান্য প্রশাসনিক কাজে শিক্ষকদের আর অহেতুক হয়রানির শিকার হতে হবে না বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Bangla News Dunia Desk - Pallab

মন্তব্য করুন